শিরোনাম :
সস্তা রুশ তেল নাকি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক, দিল্লির সামনে ক্রমেই জটিল সমীকরণ ইতালির স্কুলে হিজাব-বোরকা নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও আসছে সীমা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে চীনা কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা চায় অ্যাঙ্গোলা সৌরশক্তি ও পশুপালনের সমন্বয়ে গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন পথ সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনকাঠামো, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা মাদক কেনার টাকা জোগাড়ে ২০ মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রির অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে অপ্রতিম হত্যা তদন্তে অগ্রগতি, উদ্ধার আইফোন দেশের ৩৭ জেলায় বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

গাজা যুদ্ধবিরতি–পরবর্তী শাসন তদারকিতে তুরস্ক ও মিসরকে যুক্ত করতে চান ট্রাম্প

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে তুরস্ক ও মিসরের রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আঙ্কারা ও কায়রো—উভয় পক্ষই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গাজা সংকট সমাধানে নিজের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের ধারণা সামনে আনেন ট্রাম্প। পরে অক্টোবরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে সম্মতি জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠন করা হবে, যার কার্যক্রম তদারকি করবে এই বোর্ড অব পিস।

হোয়াইট হাউস গত শুক্রবার শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ একাধিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে। এ ছাড়া তালিকায় আছেন মার্কিন ব্যবসায়ী মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল এবং জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন ট্রাম্প নিজেই।

এই প্রেক্ষাপটে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এক দিন আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে এরদোয়ান শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। একই দিনে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট আল-সিসিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি মিসর সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। খাদ্যসংকটসহ মানবিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে এবং পুরো জনগোষ্ঠী কার্যত বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এই অভিযানে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ তুলেছেন। যদিও ইসরায়েল দাবি করে, হামাসের ওই দিনের হামলার জবাবে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই তারা অভিযান চালাচ্ছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শান্তি পর্ষদ গঠন করা হলেও, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্ষদের অধীনে গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব হবে গাজাবাসীর জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

এদিকে আল-জাজিরা ও বিভিন্ন বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই বোর্ডকে শুধু গাজা নয়, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সংঘাত মোকাবিলায় একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে দেখতে চান। ট্রাম্পের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র ও সংযুক্ত ‘চার্টার’-এ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি সুসংহত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে ‘নতুন ও সাহসী পথ’ অনুসরণের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে কূটনৈতিক মহলে এ উদ্যোগ ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। রয়টার্সকে দেওয়া মন্তব্যে এক কূটনীতিক একে ‘ট্রাম্পের জাতিসংঘ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির প্রতিফলন নেই। যদিও হোয়াইট হাউসের দাবি, শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘের বিকল্প নয়; বরং এটি একটি পরিপূরক উদ্যোগ, যার বিস্তৃত ভূমিকা আপাতত ‘আকাঙ্ক্ষামূলক’ পর্যায়েই রয়েছে।

এ ছাড়া পর্ষদের সদস্যপদ ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সদস্য হতে দেশগুলোকে এক বিলিয়ন ডলার দিতে বলা হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউস এ দাবি নাকচ করে জানায়, সদস্য হতে কোনো নির্ধারিত ফি নেই, যদিও ‘স্থায়ী সদস্যপদ’ পেতে নির্দিষ্ট আর্থিক অঙ্গীকার থাকতে পারে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD