জার্মানবাংলা২৪ ডটকম: মানবতাই পরম ধর্ম। মানবতার কল্যাণে যে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে সেই তো মহান মানুষ হিসেবে হয় স্বীকৃত। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন সম্প্রতি মানবকল্যাণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তার মমতার স্পর্শে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেল রাস্তায় পড়ে থাকা অসহায়-ছিন্নমূল পরিবারটি। মমতাময়ী জেলা প্রশাসক দরিদ্র ফরিদার প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখালেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে। যা দেখে সমাজের অনেক বিবেকবান মানুষও অনুপ্রাণীত হতে পারেন অসহায় মানুষের প্রতি হাত বাড়িয়ে ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করতে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিন বলেন, ঢাকার কলাবাগানে রাস্তার ধারে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা সেই ফরিদা ও তার সন্তানরা বর্তমানে সুস্থ আছেন। বুধবার (১১ জুলাই) দুপুরে কলাবাগান এলাকায় গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করে খোঁজখবর নিয়েছি।
ফরিদা তার স্বামী সন্তানদের নিয়ে কুড়িগ্রামে একটি ভাড়া বাসায় তুলে দেয়া হবে। সেখানে তাদের খাওয়া দাওয়াসহ সার্বিক দায়িত্ব সদর ইউএনও পালন করবেন। এর আগেও তারা শহরের একটি সরকারি খাস জমিতে থাকতো। সেই জমিতেই তাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। যতদিন পর্যন্ত তাদের নতুন ঘরে তুলে না দেয়া হবে ততদিন তারা ভাড়া বাসাতেই থাকবে।
তিনি বলেন, ঘরে তুলে দেয়ার পর ফরিদার স্বামী আনসার আলীকে বাড়ির আশপাশেই একটি দোকান করে দেয়ার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে আমরা নিয়েছি। দোকানে মালামালও তুলে দেয়া হবে। মূলত ফরিদার সংসার সাজানোর জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছুই আমরা করবো। গরু-ছাগলও কিনে দেব। তার মেয়ে ও দুই ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করার দায়িত্বও আমি নিয়েছে। আশা করছি তারা ভালো থাকবে।
সুলতানা পারভিন বলেন, আমি যতদিন কুড়িগ্রামে থাকবো তাদের দেখভাল করার দায়িত্ব আমার। তারা যেন ভালোভাবে জীবন-যাপন করতে পারেন সব ব্যবস্থা করে দেয়ার ব্যাপারে সদর ইউএনওকে বলা আছে। তাছাড়া আমি তো আছিই।
তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম সব সময়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে এ জেলার মানুষ। সরকার এ জেলার উন্নয়নে অনেক বেশি আন্তরিক। যে কোনো ঘটনায় জেলা প্রশাসনও সব সময় তৎপর থাকে। আমরা খুব চেষ্টা করছি সকল দুর্যোগ কেটে উঠার।
প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই রাজধানীর সোবহানবাগ মসজিদের কাছে জ্বর নিয়ে ফুটপাতে পড়ে থাকেন ফরিদা। পরদিনও রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। এদিন সন্ধ্যায় মাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছিল তার দুই শিশু সন্তান। তারা প্লাস্টিকের বোতলে করে মায়ের মাথায় পানি ঢালছিল। সেই দৃশ্য দেখে মোবাইলে ধারণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পারবেস হাসান। এরপর তিনি ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। পরিবারটির অসহায়ত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর নজরে আসে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিনের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারটির দায়িত্ব নেয়ার আশ্বাস নেন। সেই আশ্বাস থেকেই তিনি বুধবার ঢাকায় পরিবারটি সঙ্গে দেখা করেন।