শিরোনাম :
জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধ, নর্ড স্ট্রিম তদন্ত, রাইনে নাব্য সংকট ও চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, বৃহস্পতিবার মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, আগস্টে প্রত্যাবাসন ৫১৪ পাঁচ মাস পর নতুন কমিশন পেল দুদক নবম জাতীয় বেতন স্কেল: সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ জেনেভায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত শিল্প ও পরিবহনে নতুন চাপের মধ্যে জার্মানি, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির আশা ও AI নিয়ে বাড়ছে প্রস্তুতি সিসিলির জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের ‘অমূল্য’ চার চিত্রকর্ম চুরি

মহাকাশ থেকে মাতৃত্ব – পাঁচ বিজ্ঞানীর অসাধারণ অবদান

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

বিজ্ঞান শুধু গবেষণাগারের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। কখনও তা ছুটে যায় মহাকাশে, কখনও পাহাড়ি তৃণভূমিতে ইয়াকের জীবন বাঁচায়, কখনও আবার একটি হ্রদের হারিয়ে যাওয়া প্রাণ ফিরিয়ে আনে। কোথাও বা অসংখ্য মায়ের মাতৃত্বের স্বপ্নকে নিরাপদ করে তোলে। এমনই পাঁচ বিজ্ঞানীকে ‘সবচেয়ে সুন্দর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকর্মী’ হিসেবে সম্মান জানিয়েছে চীন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাঁচজনের কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও লক্ষ্য এক, গবেষণাকে মানুষের জীবনের কল্যাণে কাজে লাগানো।

এই তালিকায় রয়েছেন পেইহাং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশনের পেলোড বিশেষজ্ঞ কুই হাইছাও। ২০২৩ সালে শেনচৌ-১৬ অভিযানে তিনি টানা ১৫৪ দিন মহাকাশে অবস্থান এবং ৬৮টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি মহাকাশ রোবোটিক্স এবং কক্ষপথে ভাসমান মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কুই বলেন, একসময় চীন দুই থেকে তিন বছর পরপর একটি মানববাহী মহাকাশ মিশন পরিচালনা করত। এখন বছরে দুটি মিশন পরিচালিত হচ্ছে। এই অগ্রগতি দেশের মহাকাশ গবেষণার দ্রুত বিকাশেরই প্রতিফলন।

পরিবেশ সংরক্ষণে অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন ৭৭ বছর বয়সী শাংহাই চিয়াও তং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক খং হাইনান। তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়ুননানের আরহাই হ্রদের দূষণ কমাতে কাজ করেছেন। তার প্রচেষ্টায় হ্রদের পানির মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। ১১ বছরের অপেক্ষার পর ২০১৭ সালে হ্রদে বিরল জলজ উদ্ভিদ আবার দেখা যায়, যা সুস্থ জলজ পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত।

চিকিৎসা গবেষণায় স্বীকৃতি পেয়েছেন ওয়েস্ট চায়না হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ছেন লেই। তিনি সন্তান ধারণক্ষম বয়সী মৃগীরোগে আক্রান্ত নারীদের জন্য বিশ্বের প্রথম বিশেষ তথ্যভান্ডার গড়ে তুলেছেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগই তাকে এই গবেষণায় অনুপ্রাণিত করে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় ছিংহাই-সিচাং মালভূমিতে চার দশক ধরে ইয়াকের উন্নত প্রজনন ও পালন-পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন গবেষক সং রেনত্য। তার গবেষণার সুফল পেয়ে স্থানীয় পশুপালকেরা স্নেহভরে তাকে ডাকেন ‘ডক্টর ইয়াক’ নামে।
অন্যদিকে থ্রি গর্জেস গ্রুপের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ হুয়াং কুইইউন ইতোমধ্যে ২ হাজার ১৬০টি বিরল উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি উত্তর চীনে মরুকরণ রোধেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন।

হুয়াংয়ের ভাষায়, ‘বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন পাখির দুটি ডানার মতো। একটি ছাড়া অন্যটি পূর্ণতা পায় না।‘ তাই গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও বৈজ্ঞানিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মহাকাশ গবেষণা, পরিবেশ পুনরুদ্ধার, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কিংবা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ— এই পাঁচ বিজ্ঞানীর কাজ প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান তখনই সবচেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে যখন তা মানুষের জীবন, প্রকৃতি এবং ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করে।

তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD