শিরোনাম :
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা- তথ্য প্রবাহ ও স্বচ্ছতার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে: টিআইবি ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির বিরুদ্ধে নতুন সাজার রায় ফ্রাঙ্কফুর্টে নারায়ণগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল পিঠা উৎসব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের ফলে গণভোট নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক : টিআইবি ঢাকা মহানগরের ভোটগ্রহণের আগে-পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টা সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চার দিনের টানা ছুটি: স্বস্তিতে সরকারি কর্মচারীরা নির্বাচন উপলক্ষে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) এর কঠোর নিরাপত্তা জোরদার: দুর্গম ২৭টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন দেশীয় কারখানায় তৈরি এসি বাস: আত্মনির্ভরতার পথে বিআরটিসি জাতীয় নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অ্যাম্বিয়েন্টা ফেয়ার ২০২৬-এ বাংলাদেশের উজ্জ্বল উপস্থিতি

সম্পাদকীয়: গণতন্ত্রের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ- নির্বাচন, স্থিতিশীলতা ও নাগরিক নিরাপত্তা

সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

সম্পাদকীয়: বাংলাদেশ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন—যা কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় পরীক্ষা। এই প্রেক্ষাপটে রাজনীতি, অর্থনীতি ও নাগরিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় আজ গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই উত্তেজনার ব্যাপ্তি ও গভীরতা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। একদিকে ক্ষমতাসীনদের ওপর রয়েছে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক দায়িত্ব, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর রয়েছে অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি। এই দুই অবস্থানের মধ্যে আস্থার সংকট যদি দূর না হয়, তবে তার প্রভাব শুধু নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলবে।

নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তি দুর্বল হলে রাজনৈতিক অচলাবস্থার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাড়ে। বিনিয়োগে স্থবিরতা আসে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এমন এক সময়ে, যখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকট বাংলাদেশের বাস্তব চ্যালেঞ্জ, তখন রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিষয় হলো নাগরিক নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সহিংসতা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ গণতন্ত্রের চেতনাকে দুর্বল করে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ সামনে আসছে, তা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন তো বটেই, একই সঙ্গে সংবিধানে ঘোষিত সমানাধিকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন মানে কেবল ভোটগ্রহণের দিন নয়। এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার, ভিন্নমতকে সহ্য করার মানসিকতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ। এসব উপাদান দুর্বল হলে নির্বাচন একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়, আর গণতন্ত্র রূপ নেয় একটি ফাঁপা শব্দে।

এখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের ওপর জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। নিরপেক্ষতা শুধু ঘোষণায় নয়, বাস্তব আচরণ ও সিদ্ধান্তেও প্রতিফলিত হতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে-সহিংসতা, উসকানি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জনগণের আস্থা অর্জনের পথেই এগোতে হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাস প্রমাণ করে, এই জাতি সংকটের মধ্যেও এগিয়ে যেতে জানে। তবে তার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং সর্বোপরি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা। নির্বাচন যদি বিভাজনের নয়, বরং আস্থার উৎস হয়ে ওঠে, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পথ প্রশস্ত হয়, তবে এই সময়টি সংকট নয় একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই বিবেচিত হবে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন দায়িত্বশীল রাজনীতি ও মানবিক রাষ্ট্রচিন্তা। নির্বাচন যেন আস্থার ভিত্তি মজবুত করে-এটাই আজকের সময়ের প্রধান দাবি ও প্রত্যাশা।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD