শিরোনাম :
জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধ, নর্ড স্ট্রিম তদন্ত, রাইনে নাব্য সংকট ও চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, বৃহস্পতিবার মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, আগস্টে প্রত্যাবাসন ৫১৪ পাঁচ মাস পর নতুন কমিশন পেল দুদক নবম জাতীয় বেতন স্কেল: সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ জেনেভায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত শিল্প ও পরিবহনে নতুন চাপের মধ্যে জার্মানি, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির আশা ও AI নিয়ে বাড়ছে প্রস্তুতি সিসিলির জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের ‘অমূল্য’ চার চিত্রকর্ম চুরি

বিশ্ব এআই সম্মেলনের উদ্বোধনে ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক শাসনের আহ্বান সি চিন পিংয়ের

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, গতকাল (শুক্রবার) সকালে সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত, ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন, ২০২৬’ তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং ‘একসঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

সি চিন পিং বলেন, বর্তমান বিশ্ব, বিগত একশত বছরে দেখা যায়নি—এমন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন বিপ্লব এবং শিল্পে রূপান্তর দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উদ্ভাবন অভূতপূর্ব সক্রিয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এতে যেমন বিপুল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে নানান শাসনগত চ্যালেঞ্জ। মানবজাতিকে আজ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—যখন যন্ত্র চিন্তা করতে শুরু করবে, তখন মানুষ এর সঙ্গে কীভাবে সহাবস্থান করবে? যখন অ্যালগরিদম সিদ্ধান্তগ্রহণে অংশ নেবে, তখন নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে? যখন প্রযুক্তি নৈতিকতার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে, তখন শাসনব্যবস্থা কীভাবে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলবে? আর যখন প্রযুক্তিগত বৈষম্য বাড়ছে, তখন প্রযুক্তিগত সুফল কীভাবে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে? তিনি বলেন, চীনের মতে, সব দেশের উচিত মানুষকেন্দ্রিক এবং কল্যাণমুখী ধারণা অনুসরণ করা, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যৌথ সমৃদ্ধি ও অভিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয় এবং সবাই মিলে একটি ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।

এ প্রসঙ্গে সি চিন পিং চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন: প্রথমত, উন্মুক্ত সহযোগিতা ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে হবে; দ্বিতীয়ত, ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থেকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে; তৃতীয়ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে, সভ্যতার পারস্পরিক শিক্ষা ও বিনিময় জোরদার করতে হবে; চতুর্থত, ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট সি বলেন, ২০২৬ সাল চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনা বছর। এই পরিকল্পনা আগামী পাঁচ বছরে চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেবে এবং আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন কার্যকর বাজার ও সক্রিয় সরকারের সমন্বয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন জোরদার করেছে এবং সক্রিয়ভাবে ‘এআই প্লাস’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে; বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের সহাবস্থান ও যৌথ বিকাশের জন্য, একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলেছে। বর্তমানে চীনের স্মার্ট অর্থনীতির মূল শিল্পের আকার এক ট্রিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি। ‘চায়না ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং’ চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের আরেকটি উজ্জ্বল প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, চীন উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পর্কিত আইন, নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, প্রয়োগবিধি ও নৈতিক নির্দেশিকা ক্রমাগত উন্নত করছে, যাতে প্রযুক্তিটি নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে। একটি দায়িত্বশীল বড় দেশ হিসেবে, চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে সবসময় আন্তর্জাতিক জনকল্যাণমূলক পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করবে এবং বিশ্বকে ধারাবাহিকভাবে চীনা পরিকল্পনা উপহার দিয়ে যাবে।
প্রেসিডেন্ট সি আরও বলেন, সব পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায়, বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা সাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ‘বৈশ্বিক দক্ষিণ’ দেশগুলোর আহ্বানের প্রতি চীনের ইতিবাচক সাড়া এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও বৈশ্বিক শাসন এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল, এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও ভাষণ দেন।
সম্মেলনে ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন, ২০২৬ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের সভাপতির ঘোষণা’ প্রকাশ করা হয়।

সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD