শিরোনাম :
সস্তা রুশ তেল নাকি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক, দিল্লির সামনে ক্রমেই জটিল সমীকরণ ইতালির স্কুলে হিজাব-বোরকা নিষিদ্ধের উদ্যোগ, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও আসছে সীমা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণে চীনা কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা চায় অ্যাঙ্গোলা সৌরশক্তি ও পশুপালনের সমন্বয়ে গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন পথ সরকারি চাকরিতে নতুন বেতনকাঠামো, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা মাদক কেনার টাকা জোগাড়ে ২০ মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রির অভিযোগ সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে অপ্রতিম হত্যা তদন্তে অগ্রগতি, উদ্ধার আইফোন দেশের ৩৭ জেলায় বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বাংলাদেশ ‘সেফ কান্ট্রি’ তালিকায়, বদলেছে জার্মানির অ্যাসাইলাম নীতি: স্বেচ্ছায় ফেরার প্রবণতা

ফাতেমা রহমান রুমা,জার্মানি:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন অ্যাসাইলাম ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর জার্মানিসহ ইউরোপের অভিবাসনআশ্রয়নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন Common European Asylum System (CEAS) অনুযায়ী অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়াকে আরও একীভূত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণসীমান্ত পর্যায়ে প্রক্রিয়াকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জুন ২০২৬ থেকে নতুন ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ শুরু হওয়ায় জার্মানিতেও এর প্রভাব পড়ছে।

 

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো—১২ জুন ২০২৬ থেকে বাংলাদেশকে EU-এর প্রাথমিক ‘Safe Country of Origin’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে আসা অ্যাসাইলাম আবেদনকারীদের আবেদন দ্রুততর বা বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত নির্যাতন, নিপীড়ন বা নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির দাবি থাকলে তা প্রমাণ করার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

তবে বাংলাদেশকে ‘Safe Country of Origin’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ এই নয় যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে জার্মানি বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে অ্যাসাইলাম পাওয়ার অধিকার হারাবেন। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং নির্যাতন বা গুরুতর ঝুঁকির প্রমাণের ভিত্তিতে আবেদন পরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে। ফলে প্রতিটি আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তার নিজস্ব পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

এদিকে জার্মানিতে বসবাসরত সিরীয় নাগরিকদের protection status নিয়েও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক সিরীয় তাদের আগের সুরক্ষা বা protection status হারাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাসকারী সিরীয়দের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের ভবিষ্যৎ বসবাসের অধিকার ও আইনি অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

নতুন EU asylum ব্যবস্থা ঘিরে সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী দেশগুলোর ওপর অভিবাসন ও অ্যাসাইলাম আবেদনের চাপ কমানোর লক্ষ্য থাকলেও ইতালি অন্য EU দেশগুলোর সঙ্গে asylum seekers ফেরত পাঠানো বা গ্রহণের বিষয় নিয়ে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলছে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন migration policy বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জার্মানিও এই বৃহত্তর ইউরোপীয় অভিবাসননীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ায় দেশটির ওপর এর প্রভাব পড়ছে।

অন্যদিকে জার্মানিতে প্রত্যাখ্যাত অ্যাসাইলাম আবেদনকারী ও অন্যান্য অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার প্রবণতাও বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রত্যাখ্যাত asylum seekers ও অন্যান্য migrants-এর স্বেচ্ছায় জার্মানি ছাড়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যাবাসন এবং আশ্রয়প্রক্রিয়া আরও কঠোর ও দ্রুত করার চলমান নীতির সঙ্গে এই প্রবণতাকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নতুন EU Asylum System কার্যকর হওয়ার পর জার্মানির অভিবাসননীতিতে একাধিক পরিবর্তন একসঙ্গে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশকে EU-এর ‘Safe Country of Origin’ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি জার্মানিতে অ্যাসাইলামপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই তালিকাভুক্তি কোনোভাবেই সব বাংলাদেশির অ্যাসাইলাম আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার অর্থ নয়; বরং আবেদন দ্রুত ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় যাচাই হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও দাবির পক্ষে প্রমাণের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD