শিরোনাম :
ওয়াশিংটন-অটোয়া সমঝোতার আভাস, কানাডার পণ্যে শুল্ক স্থগিত জার্মানিতে অভিবাসন বিরোধ, নর্ড স্ট্রিম তদন্ত, রাইনে নাব্য সংকট ও চরম আবহাওয়ার সতর্কতা ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট, বৃহস্পতিবার মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪৪ হাজার বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার উদ্যোগ লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, আগস্টে প্রত্যাবাসন ৫১৪ পাঁচ মাস পর নতুন কমিশন পেল দুদক নবম জাতীয় বেতন স্কেল: সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত সুপারিশ জেনেভায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত শিল্প ও পরিবহনে নতুন চাপের মধ্যে জার্মানি, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির আশা ও AI নিয়ে বাড়ছে প্রস্তুতি

জার্মানিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় প্রবাসীদের অভিযোগ

ফাতেমা রহমান রুমা, ফ্রাঙ্কফুর্ট ,জার্মানি:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তিন দিনব্যাপী বিশেষ কনস্যুলার ক্যাম্পে পাসপোর্টসহ অন্যান্য সেবা নিতে গিয়ে ফি নির্ধারণ এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

গত ২৪ থেকে ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং সেবা প্রদানের পরিবেশও ছিল নাজুক।

আবেদনকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য সরকারিভাবে ১২৫ মার্কিন ডলার ফি নির্ধারিত থাকলেও ফ্রাঙ্কফুর্ট ক্যাম্পে আদায় করা হয়েছে ১৪১ দশমিক ৩০ ইউরো। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ডলারে হিসাব করলে দেখা যায়, আবেদনকারী প্রতি প্রায় ৩৭ ডলার বেশি নেওয়া হয়েছে।

একইভাবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৫০ ডলারের পরিবর্তে নেওয়া হয়েছে ৫৫ ইউরো, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রার মান অনুযায়ী প্রায় ১২ দশমিক ৭ ডলার বেশি।

প্রবাসীদের দাবি, দূতাবাস ব্যবহৃত কনস্যুলার এক্সচেঞ্জ রেট এবং ফি নির্ধারণের ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় এই অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনের এই ক্যাম্পে প্রায় ৫০০ সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ১৬ হাজার ৭০ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।

এ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে দূতাবাসের কাউন্সিলর (পলিটিক্যাল) তানভীর কবির বলেন, “অতিরিক্ত এই অর্থ মূলত সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বা সামাজিক কল্যাণমূলক তহবিল হিসেবে সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

তবে এ অর্থ রাষ্ট্রের কোন সামাজিক খাতে ব্যয় হবে এবং কেন সাধারণ প্রবাসীদের ওপর এই বাড়তি চাপ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অনেক প্রবাসী প্রশ্ন তুলেছেন।

সেবা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এম এ হাসান অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে উল্লিখিত ফির তুলনায় অনেক বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের প্রবাসীদের জন্য আর্থিক বোঝা।

অন্যদিকে, ডরটমুন্ড থেকে আসা শিক্ষার্থী ওমর ফারুক শেখ বলেন, “প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসায় সেবা পেলেও ফির ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করেছি। ওয়েবসাইটে ইউরো ও ডলারের হিসাবের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।”

 

তিনি প্রায় ৫ ইউরো বেশি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এম্বাসির ওয়েবসাইটে ইউরোতে রেট দেওয়া থাকলেও সিস্টেমে আসে ডলারে, যা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়।”

ফির পাশাপাশি ক্যাম্পের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এসেন থেকে আসা মেহেদি উদ্দিন বলেন, “গ্রীষ্মের গরমে একটি অপ্রশস্ত স্থানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে আমাদের। পর্যাপ্ত জনবল ও শৃঙ্খলার অভাবে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।”

ভুক্তভোগী প্রবাসীরা মনে করেন, ভবিষ্যতে কনস্যুলার ক্যাম্প আয়োজনের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণে স্বচ্ছতা, মুদ্রার বিনিময় হারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, ডিজিটাল সিরিয়াল ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD