সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আরপিওতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইভিএম ব্যবহার বাতিল, ‘না ভোট’ পুনর্বহাল, পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, এবং প্রার্থীদের দেশি-বিদেশি আয়-সম্পত্তি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।” পাশাপাশি ‘না ভোট’ ফেরানো হয়েছে, যাতে কোনো নির্বাচনী এলাকায় কেবল একজন প্রার্থী থাকলে ভোটাররা তাকে ভোট না দেওয়ার অধিকার পান। এতে প্রার্থী নির্বাচিত না হলে সংশ্লিষ্ট আসনে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নজরুল আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় ও সম্পত্তির তথ্য হলফনামার মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে, যা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে উন্মুক্তভাবে প্রদর্শিত হবে।
সংশোধনীতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী জামানত কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলকে ৫০০ টাকার বেশি অনুদান বা চাঁদা দিতে হলে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক, এবং অনুদানদাতার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। প্রবাসী ভোটার ও নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ডাক ভোটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।
এছাড়া, ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনো নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম হলে পুরো এলাকার ভোট বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “জোটভিত্তিক প্রার্থীদের প্রতীক ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনার জন্য নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা সহজেই বুঝতে পারেন কোন দল থেকে প্রার্থী হচ্ছেন।”
বৈঠকে আরও কয়েকটি আইনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।