রাসেলস থেকে ফারুক মোল্লা: বাংলাদেশে বিরোধী রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমের ওপর সরকারের আগ্রাসী আচরণে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে অতিসত্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য।
বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ও সাম্প্রতিক ইস্যুতে ফ্রান্সের স্টারবোর্জতে ইইউ পার্লামেন্ট একটি রেজুলেশন নেয়া হয়েছে। ইইউ পার্লামেন্টর দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা, গণমাধ্যম, ছাত্র ও আন্দোলনকারীদের ওপর সরকার আগ্রাসী আচরণ করছে; যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ নিয়ে গভীর উদ্দেগ প্রকাশ করছে ইইউ পার্লামেন্ট।
বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মত এসব আচরণ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ওই বিবৃতিতে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিষয়েও বার্তা দিয়েছে বিশ্বের এই বৃহত্তম পার্লামেন্ট।
এছাড়া বিচারবহির্ভুত হত্যা, জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়াদের প্রতিটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। এসব ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিও করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে আহবান জানিয়েছে ইইউ পার্লামেন্ট।
বিতর্কে অংশ নিয়ে অস্ট্রিয়ার রাজনীতিক জোসেফ ভাইদেনহোলজার বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের সরকারের প্রতি সহায়ক পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান, যেখানে মানুষ ভয়হীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিতে পারে।
ইতালির রাজনীতিক ইগনাসিও করাও মানবাধিকার পরিস্থিতির দিক থেকে বাংলাদেশকে ফিলিপাইন ও সৌদি আরবের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।