ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন ‘সার্বভৌমত্ব র্যালি’। শনিবার বিকেলে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত দীর্ঘ সাত কিলোমিটার রাজপথজুড়ে নেমেছিল মানুষের ঢল; যা একপর্যায়ে রূপ নেয় উত্তাল জনসমুদ্রে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতাসীন কোনো সরকারপ্রধানের এমন বিরতিহীন দীর্ঘ পদযাত্রার ঘটনা বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা সাড়ে ৩টায় বর্ণাঢ্য এই সার্বভৌমত্ব র্যালির সূচনা হয়। কাকরাইল, রমনা পার্ক সড়ক, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট হয়ে মাত্র এক ঘণ্টায় সাড়ে ৪টায় পদযাত্রাটি যখন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সমাপ্ত হয়, তখনও র্যালির পেছনের অংশ অবস্থান করছিল নয়াপল্টনে।
এর আগে দুপুর থেকেই লাল-সবুজ পতাকা এবং জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে সমবেত হতে থাকেন লাখো নেতাকর্মী। বেলা ৩টায় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উপস্থিত হলে প্রকম্পিত স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশে ৯ মিনিটের নীতি-নির্ধারণী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের চেতনায় পতিত স্বৈরাচার ও দোসরদের ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে কোনো ষড়যন্ত্র দিয়েই দমিয়ে রাখা যাবে না।” তিনি স্লোগান তোলেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।” তিনি আরও বলেন, যেভাবে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর এবং ২০২৪-এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ফ্যাসিবাদী অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, তেমনিভাবে ভবিষ্যতে আর কোনো ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
বক্তব্য শেষে সাদা হাফ হাতা শার্ট, ধূসর প্যান্ট ও নেভি ব্লু কেডস পরিহিত প্রধানমন্ত্রী দ্রুতলয়ে পায়ে হেঁটে র্যালির নেতৃত্ব দেন। তাঁর ক্ষিপ্র ও ছন্দময় হাঁটার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও নিরাপত্তাকর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। রাস্তার দুই পাশে এবং বহুতল ভবনে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান; প্রধানমন্ত্রীও স্মিতহাস্যে তাঁদের অভিবাদনের জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আমানউল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম, উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আব্দুস সালাম আজাদ, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, তানভীর আহমেদ রবীন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্নাসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ফকিরাপুল, বিজয়নগর, কাকরাইল ও মালিবাগসহ আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সমাপ্তি বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যত দিন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন এই বিপ্লবের র্যালি চলমান থাকবে। যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করাই আজ আমাদের একমাত্র প্রতিজ্ঞা।”
তথ্যসূত্র: ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব র্যালি’ এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ (৭ নভেম্বর)।