শিরোনাম :
ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে বিসিবির ‘ডি থ্রি ট্রফি’: ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে শীর্ষে শরিফুল বিকল্প শিরোনাম ২: মধ্যরাতেই ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’ : সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সংকেত ৯ মাসে ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার: আইনি দুর্বলতায় থমকে যাচ্ছে মাদ্রাসার বিচারপ্রক্রিয়া চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবারুণ অরুণ প্রভায় জাপানে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব: শামা ওবায়েদ বিহারের সিওয়ানে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দুই শিশুসহ নিহত বেড়ে ৫ ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের সময় মাঝআকাশে দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ, ৪ পাইলট নিহত বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও সমন্বিত অগ্রযাত্রায় চীনের ‘নতুন দীর্ঘ মার্চ’ বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক চালিকাশক্তি চীন-কেনিয়া দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বে নতুন গতি: সিএমজির বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্পিকার

৯ মাসে ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার: আইনি দুর্বলতায় থমকে যাচ্ছে মাদ্রাসার বিচারপ্রক্রিয়া

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন ও নিরাপদ ধর্মীয় আবহে সন্তানকে গড়ে তোলার প্রত্যাশায় অভিভাবকেরা মাদ্রাসায় পাঠালেও সেখানে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও বলাৎকারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্স’ (জেএমবিএফ)-এর এক সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৭২টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ১০৯ জন শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হলেও কার্যকর আইনি কাঠামোর ঘাটতি ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচার অধরাই থেকে যাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা ও বিচারহীনতার এমন বাস্তবতার একটি বড় দৃষ্টান্ত রাজধানীর বনশ্রী এলাকার ঘটনা। চলতি বছরের মে মাসে সেখানকার একটি মাদ্রাসা থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আবদুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে নিহতের মা মামলা দায়ের করার পর একই প্রতিষ্ঠানের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে প্রায় সাত মাস অতিবাহিত হলেও সেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি।

জেএমবিএফের সার্বিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে দেশব্যাপী ছেলে শিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অন্তত ১৩১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যা ১৭১ জন; যার মধ্যে ১৬১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার এবং ১০ জন শিশু ধর্ষণচেষ্টার মুখোমুখি হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নথিভুক্ত এসব ঘটনার সিংহভাগই সংঘটিত হয়েছে মাদ্রাসা চত্বরে।

আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ, ছেলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠছে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতা। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জানান, ছেলে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক পরীক্ষা, আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতের জন্য কোনো পৃথক ও সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) বা নির্দেশিকা নেই। ফলে মেডিকেল ও ডিএনএ পরীক্ষার মতো অতি সংবেদনশীল প্রমাণাদি আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায় না, যা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাওয়ার পথে বড় আইনি বাধা তৈরি করছে। এছাড়া লোকলজ্জার ভয়ে অনেক পরিবার ঘটনা প্রকাশ না করায় বহু শিশু সঠিক শারীরিক চিকিৎসা ও মানসিক ট্রমা থেকে উত্তরণের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবল শাস্তির বিধানে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিরোধমূলক স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বলেন, মাদ্রাসাসহ দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ বিষয়ে স্পষ্ট সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের সংবেদনশীল করা এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রাখা জরুরি, যাতে শিশুরা কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া অভিযোগ জানাতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও কঠোর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ফ্রান্স (জেএমবিএফ) ও সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ অভিমত।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD