জার্মানির ফ্রাঙ্কফোর্ট শহরে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠান। জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে ফেনী জেলার বাসিন্দাসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নবগঠিত সংগঠনটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বের করে অংশ নেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক মতপার্থক্য ভুলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্র হয়ে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের আতিথেয়তা। বাঙালিয়ানা খাবার, আপ্যায়ন ও আন্তরিকতায় গোটা আয়োজনস্থল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের এক টুকরো প্রতিচ্ছবি—যা প্রবাসের মাটিতে উপস্থিত সবার মনে জাগিয়ে তোলে মাতৃভূমির স্মৃতি ও ভালোবাসার অনুভূতি।
সমাজ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই অনুষ্ঠানে সমাজকর্মী ও সাংবাদিক ফাতেমা রহমান রুমাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া শিল্পী মিনহাজ দীপনসহ আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা জানানো হয়। ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠক ও বিশেষ অতিথি দেওয়ান শফিক সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

এই অনুষ্ঠান নিছক একটি সংগঠনের অভিষেক অনুষ্ঠান ছিল না; বরং তা ছিল প্রবাসের মাটিতে বাঙালির ঐক্য, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির এক অনবদ্য মিলনমেলা। রাজনীতি, পেশা কিংবা মতের ভিন্নতা কোনো কিছুই সেদিন মানুষে মানুষে দূরত্ব তৈরি করতে পারেনি। ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করে দিল—প্রবাসে থেকেও নিজেদের শেকড়, সংস্কৃতি ও ভ্রাতৃত্বকে হৃদয়ে ধারণ করা সম্ভব। সব মিলিয়ে ফ্রাঙ্কফোর্টের বুকে ফেনী অ্যাসোসিয়েশনের এই আয়োজন সত্যিই পরিণত হয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে।
অনুষ্ঠানে ফেনী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানির একটি উপদেষ্টা ও কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- সভাপতি: আনিসুর রেজা সিজার। সহ-সভাপতি: বেলাল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ফারুক, আবদুল মান্নান, লতি জালাল, কুতুব উল্লাহ, শহিদ উল্লাহ ও শহিদ উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক: জামশেদ আলম রানা। সহ-সাধারণ সম্পাদক: মাহাবুবুল হক। সাংগঠনিক সম্পাদক: মোহাম্মদ আলমগীর। দপ্তর সম্পাদক: আহমেদ শাকিল। কোষাধ্যক্ষ: মোহাম্মদ মামুন। প্রচার সম্পাদক: কাজী মিজানুর রহমান। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: আশরাফুর রহমান চৌধুরী অনু। সহ-ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মনসুর সাগর। আপ্যায়ন সম্পাদক: ফারুক সোহাগ। সহ-আপ্যায়ন সম্পাদক: সোহাগ মিয়া। ধর্মবিষয়ক সম্পাদক: মাস্টার শাহজাহান। সমাজসেবা সম্পাদক: রেজাউল করিম আবসান। সহ-সমাজসেবা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম সোহেল।
এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে রয়েছেন- ফারজানা রেজা কনা, খালেদা আলম রুমা, বকুল রহমান, ইয়াসমিন আহমেদ মিতা ও তাসলিমা নাসরিন রুমকি।
উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন মোহাম্মদ আবুবক্কর ছিদ্দিক, আহমেদ আলাউদ্দিন, কামাল লুক্স, শেখ শাহজাদা ও আবুল কালাম।
নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নতুন উদ্যম ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে ফেনী অ্যাসোসিয়েশন জার্মানিতে প্রবাসী ফেনীবাসীর মধ্যে সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে এবং দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানবিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড প্রবাসের মাটিতে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপস্থিত সবার কণ্ঠে ছিল একই প্রত্যাশা—এই সংগঠন হয়ে উঠবে প্রবাসী ফেনীবাসীর মিলনস্থল ও আস্থার ঠিকানা।