ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে অবস্থিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) কথিত ‘গোপন বন্দিশালা’ পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা ওই স্থান পরিদর্শন শুরু করেন। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে পরিচালিত এ পরিদর্শন দলে চিফ প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ছিলেন।
বিচারাধীন মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এর আগে গত শনিবার রাজধানীর উত্তরায় র্যাব পরিচালিত কথিত ‘বন্দিশালা’ বা ‘গুমঘর’ পরিদর্শন করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা।
প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, র্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত কথিত বন্দিশালায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম করে আটকে রাখার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করতেই বিচারপতিদের এই পরিদর্শন।
জেআইসিতে ২৬ জনকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তারেক সিদ্দিকীসহ মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন। আসামিদের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ বর্তমান ও সাবেক ১০ জন সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, এ মামলার আসামিদের মধ্যে একজন মেজর জেনারেল ও দুই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলাটির অভিযোগের বিষয়ে ‘গুমের শিকার’ সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আল আযমী, হাসিনুর রহমান ও মারুফ জামানসহ আরও কয়েকজন এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
বিচারাধীন মামলায় যেসব স্থানে আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেসব স্থানের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি আদালতের সামনে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করতেই বিচারপতিদের এই সরেজমিন পরিদর্শন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
সূত্র: প্রসিকিউশন।