নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, এই আন্দোলন এখন আর কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সারাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তিনি নিজে না থাকলেও নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের দাবিতে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, প্রায় ৩১ বছর আগে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি নিরাপদ সড়কের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এ আন্দোলন এখন দেশের সাধারণ মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে রেখে গেলাম। আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন।” একই সঙ্গে তিনি সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন, মানুষে মানুষে কোনো বিরোধ নেই; বরং সড়কে মানুষের জীবন রক্ষায় সবাইকে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে হবে।
শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, মহান আল্লাহ যেন তাকে সুস্থতা দান করেন এবং আবারও আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার শক্তি দেন। তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সরকার, প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ আন্দোলনকে সফল করতে রাষ্ট্র, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। পরবর্তীতে দিনটি ‘জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবি কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত আন্দোলন নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জাতীয় দাবি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনে নামতে না হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। তিনি নিরাপদ সড়ক চাই-এর কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষার জন্য কাজ করছেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক দায়িত্ব।
তিনি জানান, সরকার দেশের প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মহাসমাবেশে সড়ক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।