দেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ত বৃক্ষরোপণ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে প্রথম ‘সবুজ বিপ্লব’-এর ধারণা সামনে আনেন। তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন, খাল খনন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জনগণকে প্রকৃতিনির্ভর উন্নয়নের পথে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে নিজ হাতে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে এ কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করেন এবং ১৯৯৪ সালে জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন, যা দেশে বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়।
তিনি প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যুবসমাজকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের বিকল্প নেই। একটি গাছ যেমন অক্সিজেন সরবরাহ করে, তেমনি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সরকারের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বৃক্ষ সংরক্ষণ না করলে পরিবেশ ও মানুষের অস্তিত্ব উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং উন্মুক্ত স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন এবং মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।