ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন নয়, বরং সমঅধিকার ও নাগরিক মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহু ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিলিত আবাসভূমি। এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তির রাজনীতি বা বিদ্বেষ ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদার অধিকারী।
তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সেই আদর্শ বাস্তবায়নে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ধর্মকে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। উগ্রবাদ ও মৌলবাদকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের ন্যায্য দাবি ও সমস্যাগুলো আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানে সরকার আন্তরিক। পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ।