রাজধানীর কেরানীগঞ্জে গোপনে পরিচালিত একটি ইয়াবা উৎপাদন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, মাদক তৈরির কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দের পাশাপাশি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে ইয়াবা তৈরি ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মধ্যচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), আলী আরমান (৩৬), মো. শাহজাহান (৪০) এবং সোনিয়া (৩০)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৯৬৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পাউডারজাতীয় কাঁচামাল, উৎপাদন যন্ত্রপাতি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা প্রায় দুই বছর ধরে ইয়াবা উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ধরনের আরও কয়েকটি গোপন উৎপাদন কেন্দ্রের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান বলেন, ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালগুলো নিজে অবৈধ নয়; বিভিন্ন বৈধ শিল্পকারখানায় এসব উপকরণের ব্যবহার রয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এসব উপাদান ব্যবহার করে মাদক উৎপাদনের কৌশল তৈরি করেছে। কাঁচামালের উৎস, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আলমগীরের বিরুদ্ধে রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় অন্তত তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। র্যাবের দাবি, আটক চারজনই পেশাদার মাদক কারবারি এবং তারা কামরাঙ্গীরচর, পুরান ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় একটি মাদক সরবরাহ চক্র পরিচালনা করছিল। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র: র্যাব-১০ সংবাদ ব্রিফিং ।