বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ব্যয়ে হজ পালন নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছর হজের বিমান টিকিটের মূল্য আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর কর ও আবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হজ্জ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। হজযাত্রাকে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার পাশাপাশি যৌক্তিক ব্যয়ে উন্নত সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বছর হজের বিমান টিকিটের মূল্য ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছিল। এবার আরও ২৫ হাজার টাকা কমিয়ে টিকিটের মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে হজযাত্রীদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে বিমান টিকিটের ওপর আরোপিত বিমানবন্দর নির্মাণ কর কমানোর জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি হাজিদের আবাসন ব্যয় কমাতে বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিষয়েও সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হোক। তাই কোনো হজ এজেন্সি যদি হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা বা অনিয়মে জড়ায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ হজযাত্রী বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করেন। তাই এজেন্সিগুলোকে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়, যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
এ সময় রাজকীয় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান খালিদ সাঈদ আল হাদাল, হাবের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন হজ এজেন্সির প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক হজ ও ওমরাহ প্রত্যাশী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।