শিরোনাম :
জাতিসংঘ সফরে ১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থ হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ থেকে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, টিকা পাবে ৩৪ লাখ শিশু তারেক রহমানের সঙ্গে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব গাজা ইস্যুতে জাতিসংঘে ইসরায়েলের ওপর বাড়ছে চাপ, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে জোর শাংহাই সুপার ফ্যাক্টরিকে ‘রত্ন’ বললেন ইলন মাস্ক গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সম্মত চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের, সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির রূপান্তর, ইউনিসেফের সঙ্গে ববি হাজ্জাজের বৈঠক মেসির বিদায়ী ম্যাচে বিশেষ জার্সি, আকাশি-সাদার সঙ্গে সোনালি ছোঁয়া পুলিশ অপরাধে যুক্ত হলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজা ইস্যুতে জাতিসংঘে ইসরায়েলের ওপর বাড়ছে চাপ, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে জোর

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতারা গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

অধিবেশনে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনাও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন কূটনীতিক হল থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় কেউ কেউ তাকে উদ্দেশ করে দুয়োধ্বনি দেন। অধিবেশনের সভাপতিকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানাতেও দেখা যায়। ঘটনাটি গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মতপার্থক্যের একটি প্রকাশ্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন শান্তির পক্ষে অবস্থানের কথা বললেও ট্রাম্প প্রশাসন একই সময়ে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার প্রতি আরও দৃঢ় অঙ্গীকারের আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে শেষবারের মতো দেওয়া ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জঙ্গলের আইন’-এর দিকে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন ম্যাক্রোঁ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় নিষ্ক্রিয় থাকলে বিশ্বব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা থাকবে—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কেউ কেউ শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বললেও গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

ফিলিস্তিন ও ইরান ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরোধিতা অস্ট্রেলিয়া অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যতে হামাসের কোনো ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করার কথাও জানান তিনি। আলবানিজের ভাষায়, ‘শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাব, যার মধ্যে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতিও রয়েছে।’

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জাতিসংঘে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নেতানিয়াহু গাজায় যে ‘গণহত্যা’ চালিয়ে যাচ্ছেন, স্পেন তার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানায়। ইউক্রেন, লেবানন কিংবা ইরান—যেখানেই আগ্রাসনমূলক যুদ্ধ শুরু হয়েছে, স্পেন তার বিরোধিতা করেছে বলেও জানান তিনি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষণের সময় জাতিসংঘে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল হল থেকে বেরিয়ে যায়। বিপরীতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে এরদোয়ানকে সমর্থন জানান।

এরদোয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে তুরস্ক যুদ্ধবিরতিতে ভূমিকা রেখেছিল। তবে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গাজাকে ‘বর্তমান সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ বলেও উল্লেখ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা সালমান শেইখ গাজার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, সেটিকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ সমাধানের পক্ষে সমর্থন বাড়লেও অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজার বাস্তব পরিস্থিতি এর বাস্তবায়ন কঠিন করে তুলছে।

গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে পশ্চিম তীরের E1 করিডরে পরিকল্পিত নির্মাণকাজ এগিয়ে গেলে ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তাও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। তবে বাস্তবে অগ্রগতি থেমে আছে উল্লেখ করে তিনি গাজার জন্য আন্তর্জাতিক শান্তি পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এদিকে গাজায় যুদ্ধে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। নিহতরা হলেন রিজার্ভ সার্জেন্ট নাদাভ কালি, হার হালুতজের বাসিন্দা এবং সার্জেন্ট অফির মোয়ালেম, জেরুজালেমের বাসিন্দা। স্থানীয় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর গাজায় সেনাবাহিনীর একটি বিস্ফোরক ড্রোনের ঘটনায় তারা নিহত হন। ড্রোনটি দ্বিতীয়বার উড্ডয়নের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সামরিক পোস্টের ভেতরে পড়ে যায়। পরে সেনারা সেটির কাছে গেলে ড্রোনটি বিস্ফোরিত হয়।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD