পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন ।
ধীরগতির সূচনা হলেও টুর্নামেন্টের শেষটা হয়েছে রাজকীয়। নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে নিজেদের দ্বিতীয় ফিফা বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, দুর্দান্ত রক্ষণ, কার্যকর মিডফিল্ড এবং তরুণদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে ‘লা রোজা’ আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠে এসেছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে হতাশা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল স্পেন। সেই ফলের পর দলটির সামর্থ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় তারা। এরপর নকআউট পর্বে একের পর এক বাধা পেরিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
টুর্নামেন্টে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দলগত ফুটবল। ৪৮ দলের মধ্যে ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ স্কোয়াড নিয়েও তারা অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষদের ছাড়িয়ে গেছে। দলের গড় বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছরের কিছু বেশি। ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি, ২৩ বছর বয়সী পেদ্রি এবং ২৪ বছর বয়সী নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণরা পুরো আসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নকআউট পর্বে স্পেনের সাফল্যে বড় অবদান রাখেন বদলি খেলোয়াড়রাও। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে জয়সূচক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল মেরিনো। এতে স্পষ্ট হয়, শুরুর একাদশের বাইরেও স্পেনের বেঞ্চ কতটা শক্তিশালী ছিল।
অনেকের ধারণা ছিল, স্পেনের আক্রমণভাগ পুরোপুরি লামিন ইয়ামালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বাস্তবে দলটি ছিল সমষ্টিনির্ভর। সর্বোচ্চ গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল। মেরিনো ও পেদ্রো পোরো দুটি করে গোল করেন। আর ফাইনালে শিরোপা নির্ধারণী গোলটি আসে ফেরান তোরেসের পা থেকে। অন্যদিকে ইয়ামাল গোল কম করলেও প্রতিটি ম্যাচে তার গতি, সৃজনশীলতা ও আক্রমণ গড়ে তোলার ভূমিকা ছিল অনন্য।
সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের পূর্ণ প্রমাণ দেয় স্পেন। দানি ওলমো, রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের মিডফিল্ড আধিপত্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসির মতো তারকাদের কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখা হয়। কোচ দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত পরিকল্পনা ওই ম্যাচে প্রশংসা কুড়ায়।
ফাইনালেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে স্প্যানিশরা। বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে তারা আর্জেন্টিনাকে প্রায় পুরো ম্যাচেই চাপে রাখে। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা মাত্র দুটি শট নিতে সক্ষম হয়, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। স্পেন প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শক্তিশালী শটেই আসে জয়সূচক গোল। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়।
পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। একই সঙ্গে দলটির অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ৩৮ ম্যাচে পৌঁছেছে। তরুণ ও প্রতিভাবান এই দলকে ঘিরে আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষকরা।