‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি’ (এনপিটি)-এর একাদশ পর্যালোচনা সম্মেলন ২৭ এপ্রিল থেকে ২২ মে পর্যন্ত নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত (বুধবার) অনুষ্ঠিত এর দ্বিতীয় প্রশ্নোত্তর পর্বের ভাষণে চীনা প্রতিনিধিদল জানায়, সানায়ে তাকাইচি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জাপানের পারমাণবিক ইস্যুটি একটি বাস্তব হুমকিতে পরিণত হয়েছে; যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
চীনা প্রতিনিধিদল আরও বলে, জাপান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাময় একটি দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এছাড়া, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার চুক্তির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জাপানই একমাত্র অ-পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ, যাদের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাপানের এসব নেতিবাচক প্রবণতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
প্রথমত, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘোষণা করেছেন যে ‘জাপানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত’। পাশাপাশি দেশটির ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তি ‘তিনটি পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন নীতি’ সংশোধনের চেষ্টা করছে এবং বারবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করছে।
দ্বিতীয়ত, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে প্লুটোনিয়াম মজুত করে রেখেছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থাকায় দেশটি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলতে পারে।
তৃতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের বিষয়ে জাপানের অবস্থান স্ববিরোধী। একদিকে দেশটি নিজেকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের শিকার’ হিসেবে চিত্রিত করে এবং পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের সমর্থক হিসেবে দাবি করে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে; অন্যদিকে মিত্রদের সাথে ‘সম্প্রসারিত প্রতিরোধ’ সহযোগিতা জোরদার করছে এবং খোদ জাপানেই মিত্রের পারমাণবিক অস্ত্র আনতে আগ্রহী।
চীনের মতে, এই পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনা হওয়া প্রয়োজন এবং জাপানের পারমাণবিক কার্যক্রমের যাচাই ও তত্ত্বাবধান কার্যকরভাবে জোরদার করতে হবে।
সূত্র:তুহিনা-তৌহিদ-শুয়েই,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।