চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ২৯ এপ্রিল (বুধবার) বেইজিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সাথে অষ্টম দফার চীন-অস্ট্রেলিয়া কূটনৈতিক ও কৌশলগত সংলাপে অংশ নেন।
এ সময় ওয়াং ই বলেন, গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবেনিসের কৌশলগত যোগাযোগ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীন-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক উন্নত করার জন্য ইতিবাচক প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং কূটনৈতিক ও কৌশলগত সংলাপ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, মতপার্থক্য হ্রাস এবং সহযোগিতা প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। চীন ও অস্ট্রেলিয়ার উচিত উচ্চ-পর্যায়ের বিনিময় বজায় রাখা, কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি করা, সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ক্রমাগত ইতিবাচক উপাদান যুক্ত করা। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ দেশগুলোর সাথে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার নীতি মেনে চলে, চীন দ্বীপ দেশগুলোর উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এটি কোনো তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। অস্ট্রেলিয়ার উচিত বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠ ও যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করা। অ্যাপেকের পালাক্রমিক সভাপতি হিসেবে চীন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমিউনিটি প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত ও উন্নত করতে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতায় বৃহত্তর অবদান রাখতে অস্ট্রেলিয়াসহ সকল পক্ষের সাথে সহযোগিতা জোরদার করতে ইচ্ছুক।
ওয়াং ই আরও বলেন, বিশ্ব এক শতাব্দীতে অভূতপূর্ব গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং একপাক্ষিকতা ও আধিপত্যবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে চীন ধারাবাহিকভাবে বহুপাক্ষিকতার পক্ষে কথা বলেছে ও তার চর্চা করেছে এবং জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে আসছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ এবং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গঠনের ধারণা বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষার সাথে অনুরণিত হয়, মানবতার সামগ্রিক স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এটিই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ। চীন ও অস্ট্রেলিয়ার উচিত ইতিহাসের সঠিক পক্ষে এবং বহুপাক্ষিকতার পক্ষে একসঙ্গে দাঁড়ানো; যৌথভাবে বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা ও সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা, সংঘাতপূর্ণ বিষয়গুলোর রাজনৈতিক সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ও সমতাপূর্ণ একটি বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজকে এগিয়ে নেওয়া।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো চীন সফর এবং অস্ট্রেলিয়া-চীন কূটনৈতিক ও কৌশলগত সংলাপের নতুন পর্বে যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন পেনি ওং । অস্ট্রেলিয়া, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং চীনের সঙ্গে খোলামেলাভাবে আলোচনা, বোঝাপড়া বৃদ্ধি, সহযোগিতা জোরদার এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ইচ্ছুক। অস্ট্রেলিয়া এক-চীন নীতি মেনে চলে, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ সমর্থন করে না এবং তাইওয়ান সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করে। একটি প্রধান বিশ্বশক্তি হিসেবে, আন্তর্জাতিক সংঘাতপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানে চীন একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। অস্ট্রেলিয়া এমন কোনো অযৌক্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনকে সমর্থন করে না যেখানে আধিপত্য ও অধীনতা বিদ্যমান থাকে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন সমুন্নত রাখতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রসারে চীনের সাথে কাজ করতে ইচ্ছুক।
সূত্র: রুবি-হাশিম-সুবর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।