ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতি যদি মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাহলে তা ১৫০ ডলার অতিক্রম করার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ—প্রায় ২০ শতাংশ—হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো ধরনের অচলাবস্থা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপে ফেলে এবং বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি করে।
জেপি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরবরাহ সংকট এবং মজুত কমে যাওয়ার কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকজুড়ে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রণালি আংশিক চালু হলে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেলের দামে তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও গভীর হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।