শিরোনাম :
এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা অসুস্থ হজযাত্রীর খোঁজ নিতে রাতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ জাপানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতায় নতুন গতি আনতে চায় বেইজিং ও ক্যানবেরা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগে বাড়ছে আস্থা এআই প্রযুক্তিতে শিল্প উৎপাদন ও উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ব্রিটেনে সন্ত্রাস হুমকির মাত্রা ‘গুরুতর’, বাড়ানো হলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বেদনাদায়ক জবাব’ দেবে ইরান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

সম্পাদকীয়: ৭ মার্চ-স্বাধীনতার অমর প্রেরণার দিন

সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

সম্পাদকীয়:বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ৭ মার্চ এমন একটি দিন, যা বাঙালির আত্মপরিচয়, অধিকারচেতনা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ প্রদান করেছিলেন, তা শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না; বরং ছিল একটি জাতিকে মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।

পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ নানাবিধ বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হতে থাকে। রাজনৈতিক অধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাঙালিদের ওপর অবিচার চলতে থাকে। এই দীর্ঘ বঞ্চনা ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে সংগঠিত হতে থাকে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা কৌশলে বিলম্ব ঘটায়। ফলে পুরো দেশ এক অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে।

এমন সংকটময় সময়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ জাতির সামনে নতুন আশা ও দিকনির্দেশনা এনে দেয়। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জনগণকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর উচ্চারণ—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—সমগ্র জাতিকে এক অদম্য প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করে তোলে। সেই ভাষণ বাঙালির মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও দৃঢ় করে এবং পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে।

৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্ব ইতিহাসেও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক বক্তব্যকে ২০১৭ সালে ইউনেস্কো ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ কর্মসূচির আওতায় বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

অতএব, ৭ মার্চ শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বাঙালির স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক। এই দিনের ভাষণ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ঐক্য, সাহস এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে একটি জাতি তার ন্যায্য অধিকার আদায়ে সফল হতে পারে। তাই ৭ মার্চ চিরকাল বাঙালি জাতির সংগ্রামী ইতিহাসের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD