সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান আলোচনা ও জল্পনার প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, পে কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে; এটি বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নেয়নি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা অসুস্থ থাকায় বৈঠক শেষে পে কমিশনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আর মাত্র ১৫ দিনের মতো রয়েছে। এই সীমিত সময়ে এ সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা জানান, পে কমিশনের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আর্থিক সংস্থানসহ সব দিক বিশ্লেষণ করে সুপারিশ দেবে, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একটি পে কমিশনের দাবি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কমিশন গঠন করা হয় এবং তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করা মানেই সুপারিশ বাস্তবায়ন নয়।
পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুপারিশগুলো হুবহু বাস্তবায়ন করা হলে ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা সর্বোচ্চ সম্ভাব্য হিসাব। বাস্তবে এ ধরনের বেতন কাঠামো সাধারণত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে।
বর্তমান সরকারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মাস্টারপ্ল্যান এবং মাল্টিমডাল পরিবহন খাতের পরিকল্পনা যেমন করা হয়েছে, পে কমিশনের বিষয়টিও তেমনি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা বা আন্দোলন যেন তৈরি না হয় এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
পে কমিশনের প্রতিবেদন ও মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, সরকার এখনো কোনো বাস্তবায়নমূলক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পে কমিশনের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে মন্ত্রীদের জন্য ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ সংক্রান্ত প্রশ্নে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব তিনি দেখেননি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে এমন কোনো প্রস্তাব উপস্থাপনও করা হয়নি।