বইমেলা, বাউল আখাড়া, মাজার-দরগাসহ ভিন্নমতের নাগরিকদের উপর মব লেলিয়ে দিয়ে একটি গোষ্ঠী জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন উদীচী নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, এসব নৈরাজ্য পতিত স্বৈরাচার ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের ছককে পূর্ণতা দেবে। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পূণর্বাসনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে এসব কথা বলেন নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, মানুষের কণ্ঠরোধ, ভিন্নমত দমন, ট্যাগ দিয়ে মানুষের উপর জুলুমকে বৈধতা দেয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কৌশল ছিল। সেই একই কৌশল কাজে লাগাচ্ছে নব্য ফ্যাসিস্টরা। তারা মানুষের ঐক্য বিনষ্ট করছে।
ঢাকায় একুশে বইমেলায় সব্যসাচীর স্টলে হামলা, সাতক্ষীরা বইমেলায় উদীচীর স্টলে হামলা ও ব্যানারে আগুন, টাঙ্গাইলে লালন স্মরণোৎসব বন্ধ করে দেওয়া এবং সারাদেশে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে নাগরিক স্বাধীনতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার প্রতিবাদে উদীচী এ সমাবেশের আয়োজন করে।
উদীচীর সহসভাপতি হাবিবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সহসভাপতি ইকরামুল কবির ইল্টু, সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহসাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান, রহমান মুফিজ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আরিফ নূর, উদীচী মুন্সীগঞ্জর জেলার সভাপতি স ম কামাল, যুক্তরাষ্ট্র উদীচীর জর্জিয়া শাখার সভাপতি মোর্শেদুল হাকিম শুভ্র, শিল্পী সনাতন উল্লাস ও একরাম হোসেন। সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের অন্যতম সমন্বয়ক কামাল হোসেন বাদল, প্রগতি লেখক সংঘের সংগঠক দীনবন্ধু দাস, শ্রমিকনেতা হযরত আলী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে হাবিবুল আলম বলেন, ৬৭-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ১৯৭১, ৯০ এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে মানুষের পক্ষে লড়াইয়ে থেকেছে উদীচী। উদীচী মানুষের শক্তি নিয়েই সমস্ত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় মব তৈরি ও হামলার মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উৎসবের পরিসর ও উৎসব বন্ধ করার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং তাদের রাজনৈতিক ছক পূর্ণতা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। সরকারকে অবিলম্বে এসব নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে।