শিরোনাম :
নিউইয়র্কে ‘উইমেন লিডার্স’ প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান বহর আধুনিকায়নে বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি, কিনবে ১১ উড়োজাহাজ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম জয় এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যু: মামলায় আসামি মামা কারাগারে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভা নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লবায়ু সংকট মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কার্যকর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী চীন-মার্কিন সুসম্পর্ক বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে: জরিপ খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় কৃষকদের আয় ও উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিতের উদ্যোগ

রাজাকার তালিকা স্থগিত, নতুন তালিকা ২৬ মার্চ

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

জার্মানবাংলা অনলাইন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক-দালালদের ‘ত্রুটিপূর্ণ’ তালিকা স্থগিত করা হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে পড়ে তালিকা প্রকাশের চার দিনের মাথায়ই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৮ ডিসেম্বর, বুধবার সন্ধ্যার পর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়েও ফেলা হয় তালিকাটি। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সংশোধিত তালিকা প্রকাশের প্রচেষ্টা থাকবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যাচাই-বাছাই ও সংশোধনের পর নতুন করে তালিকাটি প্রকাশ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে ১৮ ডিসেম্বর সকালেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

১৮ ডিসেম্বর, সন্ধ্যায় গণভবনে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের যদি রাজাকার বলা হয়, এর চেয়ে কষ্টের ও দুঃখের কিছু থাকে না।’ প্রকাশ হওয়া তালিকা কোনোভাবেই রাজাকারের তালিকা নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার খেতাব দেওয়া হবে না, হতে পারে না। এটা অসম্ভব। অন্তত আমার সময় না। এটা কোনো দিন আমরা হতে দেব না।’

স্বাধীনতার ৪৯তম বছরে এসে গত ১৫ ডিসেম্বর স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তালিকায় জীবন বাজি রেখে যাঁরা যুদ্ধ করেছিলেন, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকের নাম, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শহীদ পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগ নেতা ও মুুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেকের নাম অন্তর্ভুক্ত দেখে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। কোথাও কোথাও বিক্ষোভও হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায়, কেন এই ত্রুটিপূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হলো, সে প্রশ্নও উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটেই ১৮ ডিসেম্বর, বুধবার রাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি ও স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রকাশিত তালিকা স্থগিত করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি ও স্বাধীনতাবিরোধী ১০ হাজার ৭৮৯ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল হতে অভিনন্দিত করা হয়েছে, আবার তালিকায় কিছু ভুলত্রুটির জন্য তীব্র সমালোচনাও হয়েছে। স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির মধ্যে যাতে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি না হয় সে জন্য প্রকাশিত তালিকা স্থগিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।’

বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ তালিকা যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের নির্দেশনা দিয়েছেন। কী প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ে দেশব্যাপী যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে প্রকৃত তালিকা প্রকাশ করা যায় সে ব্যাপারে বিভিন্ন মহলের সাথে আলোচনা প্রয়োজন। আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এ তালিকা প্রকাশের প্রচেষ্টা থাকবে।’

বিতর্কিত তালিকা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ড. এম এ হাসান। তিনি গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আশা করি তালিকাটি ত্রুটিমুক্ত করে প্রকাশ করা হবে। তবে এই তালিকায় কিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এসেছিল, সরকারের একটি উদ্যোগকে নস্যাৎ করার জন্য কেউ এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

ড. এম এ হাসান যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি দল, সংগঠন, বাহিনী—রাজাকার, আলবদর, আলশামস, আল মুজাহিদী ও শান্তি কমিটির পৃথক পৃথক তালিকা তৈরি করার আহ্বান জানান। এই তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে বিশেষজ্ঞদেরও সম্পৃক্ত করার দাবি জানান তিনি।

তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘তালিকাটি ১৯৭১ সালে করা। এটা আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংগ্রহ করে শুধু প্রকাশ করেছি। ভুলত্রুটি বেশি বের হলে তালিকা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, স্বাধীনতার পর দালাল আইনে হওয়া আসামিদের তালিকা তাঁর দপ্তর থেকে নোটসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। নোটে যেসব ব্যক্তির নাম-মামলা প্রত্যাহার হয়েছিল, তার উল্লেখ ছিল। কিন্তু তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে ওই সব নোট বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তালিকা সংশোধনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি আমাদের নেত্রী এরই মধ্যে জানেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যাচাই-বাছাই করে এখানে যেন ভুলভ্রান্তি না থাকে, ভুলভ্রান্তি থাকলে সংশোধন করে তালিকা প্রকাশের নির্দেশনা দিয়েছেন।’

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD