শিরোনাম :
৪০তম ফোবানায় নওশীনের কণ্ঠে প্রবাসে বাংলাদেশের সুর অনুবাদস্বত্ব, মেধাস্বত্ব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন পাঞ্জেরীর এমডি ক্যালিফোর্নিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহ, সতর্কতার আওতায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ চীন-রাশিয়া বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় সি চিন পিংয়ের সফরে চীন-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্কে নতুন গতি রোহিঙ্গাদের গ্রাম ধ্বংস করে সামরিক ঘাঁটি ও বন্দিশিবির গড়ছে আরাকান আর্মি: গার্ডিয়ান সম্পাদকীয় : সবার জন্য বাসযোগ্য বসতি গড়াই হোক অঙ্গীকার সীমিত আয়ের মানুষের মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ১৭ কোটি টন কয়লা উত্তোলনে সরকারের পরিকল্পনা সবার জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত: রাষ্ট্রপতি

নেত্রকোনায় সাইদুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সোহান আহমেদ কাকন,নেত্রকোনা প্রতিনিধি: মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে অটোরিকশা চালক সাইদুল ইসলাম (২৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশ। এরই মাঝে হত্যাকান্ডে জড়িত তিন জনের মাঝে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করার পাশাপাশি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন আসামিরা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দুর্গাপুরের মানিক মিয়া ও ঈশ্বরগঞ্জের সেকুল ইসলাম। এর সাথে জড়িত আরো এক আসামী শাহিন মোল্লাকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান, জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী।

এ সময় তিনি জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে নেত্রকোনা দুর্গাপুর উপজেলার বিলাসপুর গ্রামের মৃত সদর আলীর ছেলে অটোচালক সাইদুল ইসলাম নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির পরও সাইদুলের কোন খোঁজ না পেয়ে ৩ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার। পরবর্তী সময়ে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্গাপুরের সীমান্তবর্তী মিনকিফান্দা পাহাড়ের পাশে বান্দরটিলা পাহাড়ে অর্ধগলিত সাইদুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশের একটি চৌখশ টিম।
সাইদুলের মোবাইলের কললিস্টের সূত্র ধরেই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায়, মূলত সাইদুলের অটো রিকশা ছিনতাই করতেই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তারা। ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের লক্ষীপুর বাজার হতে সেকুল ইসলাম ও শেরপুর জেলার মানিকাকান্ধা থানাধীন পাকুরিয়া এলাকা থেকে মানিক মিয়া ও ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ বাজার থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারসহ চোরাই ব্যবসায়ী সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

হত্যাকান্ডে জড়িত মূল আসামীরা সকলেই বিগত কয়েক বছর আগে ঢাকায় একটি সোয়েটার কোম্পানিতে চাকুরি করতেন। এই সুবাদে তাদের বন্ধুত্ব হয়। মূলত ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই গত পহেলা সেপ্টেম্বর দুর্গাপুরে ঘুরতে আসেন তারা। পরে বিকেলে সাইদুলের রিকশাটিই টার্গেট করে। ভাড়া নিয়ে বেড়াতে যায় পাহাড়ে। কিন্তু ঐদিন অটোতে চার্জ না থাকায় তারা সেদিন এ হত্যাকাণ্ড না ঘটিয়ে তার মোবাইল নাম্বার নিয়ে চলে যায়। রাতে বিরিশিরি এলাকায় স্বর্ণা গেস্ট হাউজে রাত্রিযাপন শেষে সকালে আবারো পাহাড়ে ঘুরতে যাবে বলে সাইদুলকে ভাড়া নেয়। পরবর্তীতে সীমান্ত এলাকায় বান্দরটিলা নামক একটি নির্জন পাহাড়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে দুর্গাপুর হয় ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ নামকস্থানে পৌঁছলে রিকশার ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে সেখানে জৈনক অটো ব্যাটারি ব্যবসায়ী সবুজ মিয়ার কাছে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে অটোরিকশাটি বিক্রি করে দিয়ে সকলেই নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়। তিনি আরো জানান নির্জন পাহাড় হওয়ায় জনসাধারণের ওই এলাকায় একেবারেই চলাচল নেই। কিন্তু ৫ তারিখ সন্ধ্যায় পাহাড়ের পাশ দিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি গৃহপালিত পশু নিয়ে যাওয়ার সময় দু-একটি পশু ওই পাহাড়ের দিকে চলে যায়। পরে পশু গুলো খুঁজতে গিয়ে হঠাৎ লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি অবহিত করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য একটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ ব্যাপারে ৮ সেপ্টেম্বর সাইদুল ইসলামের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানেই আসামিদের সনাক্ত করণসহ তিনজন কে গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হয় নেত্রকোনা জেলা পুলিশ।

এ ব্যাপারে সকল কার্যক্রম শেষে বুধবার বিকেল চারটায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম ও শাহজাহান মিয়া সহ জেলায় কর্মরত সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার রহস্য উন্মোচনে জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় আসামি শনাক্ত ও ধৃত করতে সরাসরি অংশ নিয়ে ব‍্যাপক ভূমিকা রেখেছেন জেলায় কর্মরত পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম ও অতিরিক্ত সার্কেল মোঃ আল আমিন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD