নিজস্ব প্রতিবেদক:আসন্ন ঈদ-উল-আযাহাকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের ব্যাপকতা এবং ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর অসাধু চক্র দেশব্যাপী জাল টাকা ছড়িয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বিশেষ করে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে কুরবানির পশুর হাটের ব্যাপক লেনদেনকে কেন্দ্র করে জাল টাকা ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এক শ্রেণীর অসাধু চক্র আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে জাল টাকা তৈরী করে বাজারে ছাড়ছে। বিশেষ করে ১০০/- (একশত) টাকার নোটকে সিদ্ধ করে ৫০০/- (পাঁচশত) টাকার ছাপ দিয়ে এবং বিশেষ রং, কাগজ ও প্রিন্টার ব্যবহার করে তৈরীকৃত ১,০০০/- (এক হাজার) টাকার জাল নোট গুলো দেখে আসল না নকল চেনা সাধারণ জনগণের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এই জাল টাকা ব্যবসা পরিচালিত হয় সিন্ডিকেট ভিত্তিক, অত্যন্ত গোপনীয় নিজস্ব পদ্ধতি, সাংকেতি ভাষা ও ছদ্মনাম ব্যবহার করে। জাল টাকা তৈরী থেকে শুরু করে বাজারজাত করণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে স্তর ভিত্তিক লোক কাজ করে। প্রতি বছর পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী পশুর হাট গুলোতে জাল টাকার বিস্তাররোধ এবং দেশের সাধারণ জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদেরকে জাল টাকার মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষার জন্য জাল টাকা চক্রকে ধরার পাশাপাশি বাজার থেকে জাল নোট উদ্ধারে লক্ষে র্যাব-২ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর একটি বিশেষ দল গত ২২ জুলাই ২০১৯ খ্রিঃ তারিখ আনুমানিক ১৮.৫৫ ঘটিকার সময় অভিযান পরিচালনা করে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন নবীনগর হাউজিং সোসাইটির ০১ নং রোডের (আদাবর থানা কৃষকলীগ সাধারন সম্পাদকের কার্যালয়ের উত্তর পাশের্ব) বেড়ীবাঁধের উপর হতে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী ১,০০০ (এক হাজার) টাকা মূল্যমানের জাল নোটসহ ০৩ জাল টাকা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হল ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার পিতা- মৃত আব্দুল হাকিমের পুত্র মোঃ জালাল উদ্দিন (২৯),পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার মাঝেরপুল গ্রামের মোঃ কুদ্দুস খানের ছেলে মোঃ রিপন খান (৩২),মগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার গোপালনগর গ্রামের জালাল উদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ মনিরা (২৭)।
আসামী জালাল ও মনিরা বর্তমানে ১০/৩৯, দক্ষিন দাড়িয়াপুর ,গেন্ডা, সাভার,ঢাকা মৃত চান বিশ্বাসের বাড়ীর ভাড়াটিয়া ,আসামী রিপন বর্তমানে শ্যুটিং বাড়ী মোড়, আশুলিয়া, ঢাকা ইমনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল। আসামীদের কাছ থেকে একলক্ষ টাকার জাল নোট,নগদ একহাজার সত্তর টাকা,দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা (জাল টাকা তৈরীর) সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ জালাল উদ্দিন (২৯) জানায়, জাল মুদ্রা দু’ভাবে মূদ্রণ করা হয়। ভালো মানের কাগজে আঠা ও সিকিউরিটি থ্রেড বসিয়ে ভাঁজ করা হয়। এরপর স্ক্যানার ও প্রিন্টিং মেশিনের সহায়তায় সূক্ষভাবে যে কোনো মূল্যের জাল টাকা তৈরি করা হয়। এছাড়াও ওয়াশ পদ্বতিতেও জাল নোট তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে আসল টাকার নোট ওয়াশ করে শুকানো হয়। পরে ওই নোটের ওপর টাকার অংক বসিয়ে ছাপ দেয়া হয়।
যেমন ১০০ টাকার নোট ওয়াশ করে সাদা করে তার ওপর ৫০০ টাকার অংক বসিয়ে বাজারে ছাড়া হয়। আসামী আরো জানায় তিন ধাপে জাল টাকা বাজারে ছাড়া হয়। প্রথম ধাপে পাইকারী হিসেবে এক লাখ টাকার একটি বান্ডিল ২৫-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ২য় ধাপে পাইকারি কারবারিরা আবার এসব টাকা খুচরা কারবারির কাছে ৪০-৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। ৩য় ধাপে খুচরা কারবাবিররা এসব টাকা নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে তা সরাসরি সুকৌশলে ঢাকার লালবাগের কেল্লা মোড়, বাবুবাজার, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড, আজিমপুর গোরস্থান, গুলিস্থান ও কামরাঙ্গীচরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয় এবং অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বৃদ্ধ, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের লোকেরাই হচ্ছে নোট জালকারীদের মূল টার্গেট। এছাড়াও উক্ত আসামী জিজ্ঞাসাবাদে আরো অনেক গুরুত্বপূর্র তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই বাছাই করে ভবিষ্যতে র্যাব-২ কর্তৃক আরো এ ধরনের জালটাকা বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।