সোহান আহম্মেদ কাকন,প্রতিনিধি নেত্রকোনা: সারা দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে নেত্রকোনা জেলার আশংকাজনক হাড়ে বেড়ে গেছে ধর্ষণ। নেত্রকোনার কেন্দুয়াতে এর সংখ্যা ভয়ংকর ভাবে বাড়ছে। কিশোরী যুবতী গৃহবধূ ছাড়াও আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের পাশাপাশি স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষকরাও ঘটিয়ে যাচ্ছেন একের পর এক ঘটনা।
কেন্দুয়ায় এক মাদ্রাসার শিক্ষক আবাসিক কোমলমতি শিশুদের ধর্ষণ শেষে কোরআন নিয়ে শপথ করাতেন। ভয় দেখিয়ে বলতেন কাউকে বললে আল্লাহ দোজখের আগুনে পোড়াবে। গত শুক্রবার সকালে এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসীর হাতে আটক হন কেন্দুয়া মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল খায়ের বেলালী। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে ধর্ষককে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। এঘটনায় শুক্রবারই কেন্দুয়া থানায় দুটি মামলা হয়। পরে নেত্রকোনার পুলিশ সুপারের বরাবর হস্তান্তর করা হয়।
ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ শাহজাহান মিয়ার ফেইসবুক ওয়ালের স্ট্যাটাস থেকে।
নিন্মে হুবুহু পোস্টটি তুলে ধরা হলো-
কি লিখব আর কিভাবে লিখব, ভাষা পাচ্ছি না। তিনি একজন দাওরায়ে হাদীস,(সিলেট বালুরচর কওমী মাদ্রাসা হতে) মাওলানা, একজন বক্তা, একজন ইমাম, শুক্রবারে জুমআর নামাজের খতিব। মাওলানা(!!!) আবুল খায়ের বেলালী। শুক্রবারে তার বয়ান শুনার জন্য আধা ঘন্টা আগে মুসল্লীগন এসে অপেক্ষা করেন মসজিদে। কেন্দুয়ার আঠারবাড়ি এলাকায় মা হাওয়া (আ:) কওমী মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (মুহতামিম) যে মাদ্রাসায় রয়েছে প্রায় ৩৫ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রী যাদের ১৫ জন আবাসিক। সেখানে তিনিও আবাসিক। সময় সুযোগ বুঝে তিনি কলিংবেল চাপেন আর ওনার পছন্দমত একজন কোমলমতি ছাত্রীর ডাক পরে তার গা-হাত-পা টিপে দেবার জন্য। আর এক পর্যায়ে তিনি সেই অবুঝ শিশুদের উপর ঝাপিয়ে পরেন,(. . . . . ) এবং শেষে আবার কোরআন শরীফ হাতে দিয়ে শপথ করান কাউকে কিছু না বলার জন্য, বললে কিন্তু আল্লাহ তোমাকে দোযখের আগুনে পোড়াবেন। ভয়ে কোমলমতি ছাত্রীরা কাউকে কিছু বলেন না। কিন্তু আজ এক সাহসী বীরাঙ্গনা সেই ভয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে জয়ী হয়, বলে দেয় তার বড় বোন সহ বাড়ির সবাইকে সেই যন্ত্রনার মুহুর্ত গুলোর কথা। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় আটক হন সেই হুজুররূপী ধর্ষক। থানায় আটক থাকা অবস্থাতেই আরো একজন শিশুশ্রেনীর ছাত্রীর অভিযোগ জমা পড়ে। দুইটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে তার নামে (কিছু অনলাইন পত্রিকায় ধর্ষণের চেষ্টার কথা বলা হয়েছে)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাই, গত একবছরে আরো মোট ৬ জন ছাত্রীর সাথে তিনি অনুরূপ কুকর্ম করেছেন যাদের সবারই বয়স ৮ থেকে ১১ এর মধ্যে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামত জব্দ করি সাথে সেই ”কলিংবেল” টি ও যা আদালতে উপস্থাপন করা হবে। হুজুরকে রিমান্ডে আনা হবে।
উলেখ্য, শুধুমাত্র কেন্দুয়া উপজেলাতেই গত জুন মাস থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত তিনটি গণধর্ষণ সহ মোট ছয়টি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।