নিজস্ব প্রতিনিধি:গণশুনানিতে একজন সাবরেজিস্ট্রার ও দলিল লেখক ঘুষের টাকা ফেরত দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা আর কখনো এমন অপরাধ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এই শুনানিতে অন্তত ৬০টি অভিযোগ উপস্থাপিত হয়।নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এইগণশুনানীর আয়োজন করে।
দুর্গাপুর উপজেলার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই গণশুনানি হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় দুদক ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনব্যাপী এই শুনানির আয়োজন করে। দুদক কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ।
গণশুনানিতে ভূমি, সাবরেজিস্ট্রার, পল্লী বিদ্যুৎ, বন বিভাগ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়মসহ সোমেশ্বরী নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনসহ অন্তত ৬০টি অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ২৩টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়। বাকি অভিযোগগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগে অনিয়ম, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান শিক্ষকে পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্যসহ প্রাথমিক শিক্ষায় বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়গুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়কে প্রধান করে ১৫ দিনের মধ্যে সমাধানের কথা বলা হয়।
অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলেন উপজেলার শান্তিপুরের মোতালেব, থাউশালপাড়ার জামাল উদ্দিন, ইন্দ্রপুরের আবুল উদ্দিন, বড়ইকান্দির হাবিবুর রহমান, শাতাশি গ্রামের আবুল কালাম, মিঠাপুকুর পাড়ের দুলাল চক্রবর্তী, তেরীবাজারের মুকুল ভান্ডারী, চণ্ডীগড়ের চান মিয়া ফকির ও আবদুর রশীদ, পৌরসভার রোকেয়া খাতুন, কবিতা রায় প্রমুখ।
গণশুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার গোপাল সরকার ঘুষের ৮ হাজার ১১০ টাকা ও দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেন ২৫ হাজার টাকা ফেরত দেন। এ সময় তাঁরা সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি আর এমন কাজ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধান অতিথিএ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দুদক আপনাদের শোধরানোরর সুযোগ দেবে। প্রথম পর্যায়ে ক্ষমা। পরে দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তাদের আর ক্ষমা করার সুযোগ নেই। দুর্নীতিবাজ যে–ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম, পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী, দুদক ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক মো. কামরুল হাসান, দুদক পরিচালক মো. নাসিম আনোয়ার, উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ, সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম প্রমুখ গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।