খুলনা প্রতিনিধি:নৌকায় ভোট দিলি কেনো ? এখন টাকা দে, ৫ লাখ টাকা দিবি সন্ধ্যার মধ্যে, তা না হলে এলাকায় থাকতে পারবি না, জানেও বাচঁবি না-অশ্রসজল নয়নে কথাগুলো বলছিলেন ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়নের সুরেশ দাস নামে নৌকার এক কর্মী।
উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারের পক্ষে কাজ করায় তাকে এ হুমকি দেয়া হয়। পুনরায় হামলার ভয়ে থানায় অভিযোগও দিতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না তিনি। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন এখন। তার প্রশ্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা কী অপরাধ করেছি আমরা ? নৌকাকে সমর্থন দেয়াই কি আমাদের অপরাধ ছিল ?
সমগ্র ডুমুরিয়া উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, হামলা, ভাঙ্গচুরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাপক মারপিট ও ভাঙ্গচুরের শিকার হয়ে প্রাণের ভয়ে ডুমুরিয়া ছাড়তে শুরু করেছেন মোস্তফা সরোয়ারের কর্মী সমর্থকেরা। মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সময় থেকেই বিজয়ী ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী এজাজ আহমেদের কর্মী সমর্থকরা এসকল হামলা তান্ডব চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তাদের হামলা থেকে বৃদ্ধ, এমনকি মহিলারাও বাদ পড়েনি। গতকাল বুধবার সরেজমিনে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে তান্ডবের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এজাজ আহমেদের কর্মী সমর্থকরা যেখানেই মোস্তফা সরোয়ারের কর্মী সমর্থকদের পেয়েছে, সেখানেই মারপিট করেছে। হুমকি দিয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা দাবি করছে ও ডুমুরিয়া ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ডুমুরিয়ার কোমরাইল গ্রামের মেম্বার দোলোয়ার জোয়াদ্দারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন, তারা সবাই বিজয়ী চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের লোক বলে জানা গেছে। তিনি এখন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খলসি আওয়ামীলীগের সভাপতি খান নজরুলের বাড়িতে হামলা, আওয়ামীলীগ নেতা মুসার ছেলেকে মারপিট ও কর্মী আরিফকে ধাওয়া দেয়া হয়। ৬ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মেম্বার আসলাম খানকে বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে।ধামালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভঅপতি মিজানুর রহমানকে মারপিট করেছে এজাজ সমর্থকেরা। সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালিয়ে তারা আরাজি ডুমুরিয়ার আলমগীর মোড়ল, সোহাগ মোড়লকে মারপিট করে। এদিকে, ডুমুরিয়ায় মাহেন্দ্র চালকরা মোস্তফা সরোয়ারকে সমর্থন দেয়ায় তাদের অফিসে ভাঙ্গচুর চালিয়েছে এজাজ বাহিনী। অফিসে থাকা জাতির জনকের ছবি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও তারা ভাঙ্গচুর করে। এসময় তারা নানা রকম কটুক্তি করে বলেও জানা গেছে।
হামলার শিকার একাধিক নৌকার কর্মী জানিয়েছেন, তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা হিসাবে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চাদাঁ না দিলে এলাকায় থাকতে দেয়া হবে না। নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এখন তারা জীবনের শংকায় ভুগছেন। অনেকেই নির্বাচনের রাতে এলাকা ছেড়েছেন। যারা যাননি, তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে নির্বাচনে বিজয়ী এজাজ আহমেদের লোকজন। হামলার শিকার হয়ে তারা থানায়ও যেতে পারছেন না পুনরায় হামলার ভয়ে।