বিচারপতি খায়রুল হক আরও বলেন, ‘ইদানিং তো আর একটা নতুন প্রবণতা দেখছি, এক গাড়ী আরেক গাড়ীর ওপর উঠিয়ে দিচ্ছে। যেটা আজকাল আসা যাওয়ার সময় দেখি। সড়ক দূর্ঘটনা কিভাবে বাড়ছে। মানুষের পা চলে যাচ্ছে হাত চলে যাচ্ছে। মাথা চলে যাচ্ছে। এভাবে তো কোনো সভ্য দেশ চলতে পারে না। এই জন্যই দরকার আইনের পরিবর্তন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শাস্তি বাড়িয়ে কেবল হবে না, এটার (আইনের) কার্যকর করাও প্রয়োজন। আমাদের মনোবৃত্তি মনোভাব এটাও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। গাড়ীর যে মালিক তার ছেলেও কাল মারা যেতে পারে। যে বিচারক ৪০০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিচ্ছেন তার ছেলেও কাল মারা যেতে পারে। আইনের পরিবর্তন বড় প্রয়োজন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। ’
আর কি কি বিষয়য়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক আর্বিট্রেশন (শালিস) সিঙ্গাপুরে চলে যায়। আমাদের দেশের আর্বিট্রেশন কোর্ট গুলো আরও দক্ষ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির আইন পরিবর্তন করার জন্য অলরেডি ফিল্ড ওয়ার্কিং শুরু করে দিয়েছি। আর্বিট্রেশন অ্যাক্ট (শালিস আইন) কিভাবে আরও কার্যকর করা সম্ভব, যাতে অল্প সময়ের মধ্যে কম খরচে আর্বিট্রেশন হতে পারে, সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘দেশে যত ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে তত কমার্শিয়াল ডিসপিউট (ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধ) বাড়বে। ডিসপিউট বাড়লে হয় কোর্টে যাবে নয় আর্বিট্রেশনে যাবে। আমাদের দেশের কোর্ট গুলো সিআরপিসির আন্ডারে। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গেলে অনেক সময় লাগে। তার কারণে ইনভেস্টমেন্ট শাইআউট (বিনিয়োগ দৃশ্যমান) হচ্ছে না।’ কমার্শিয়াল কোর্ট কিভাবে যুগপোযোগী করা যায়, নতুন কোর্ট করার প্রয়োজন আছে কিনা, এ ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করেছি। কারণ চিফ জাস্টিসের মতামত গুরুত্ব বহন করে বলেও জানান খায়রুল হক।