আসাদুজ্জামান চৌধুরী কাজল, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দেড়শতাধিক বছরের প্রাচীন একলাশপুর জামে মসজিদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে মিজানুর রহমান নামে ওয়াকফ্ এস্টেটের সাবেক এক মোতওয়াল্লীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। তবে এ সমস্যা সমধানে স্থানীয় সাংসদসহ উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে জানা যায়।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৮৫০ সালে ১৮৪ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় একলাশপুর বাজার জামে মসজিদ। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, মসজিদের সাবেক মোতওয়াল্লী ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সম্পত্তি রক্ষা করার বদলে নিজেই দখল করে রেখেছেন মসজিদের বেশকিছু জমি। তিনি মসজিদের পুকুরের অর্ধেক, মসজিদের সামনে কবরস্থানকে তার পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ও পুকুরের পশ্চিম অংশে ৩৬ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন। মোতওয়াল্লী থাকা অবস্থায় নিজের মনের মতো করে নিয়োগ দিয়েছে খতিব। বর্তমান মোতওয়াল্লী ও মসজিদ কমিটি দায়িত্ব নেয়ার পর কাগজপত্র পর্যালোচনা নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে দাবী করেন কমিটির সদস্যরা। তাদের দাবী, প্রথমে সাবেক মোতওয়াল্লী সম্পত্তি দখলের কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে এলাকার মানুষ ও মুসল্লীদের দাবীর মুখে পুকুর ও কবরস্থানের জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তবে এখনো ৩৬ শতাংশ জমি সাবেক মোতওয়াল্লী মিজানুর রহমান জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন।
বর্তমান মসজিদ কমিটির সদস্য নুরু মিয়া জানান, ২০১১ সালে যখন বর্তমান মোতওয়াল্লী জামাল উদ্দিন ও মসজিদ কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করার মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কর্মকান্ডে হাত দেয়া হয়। তখন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায় মসজিদের যে পরিমাণ জায়গা কাগজপত্রে রয়েছে সে পরিমাণ দখলে নেই। সাবেক মোতওয়াল্লী ও বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মসজিদের সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংসদ মামুনুর রশিদ কিরণ, ইউপি চেয়ারম্যানসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ মাপ-ঝোপ করে মিজানুর রহমান থেকে পুকুর ও কবরস্থানের সম্পত্তির দখল নেয়া হয়। তবে তার বাড়ির মধ্যে থাকা ৩৬ শতাংশ জমি এখনও মসজিদ কমিটিকে বুঝিয়ে দিচ্ছে না।
কমিটির অপর এক সদস্য ডাক্তার হুমায়ুন জানান, যখনই মসজিদের সম্পত্তি দখলে আনার চেষ্টা চলছে, তখনই মিজানুর রহমান নানা অজুহাত দাঁড় করান। অসুস্থ্যতার কথা বলে আত্মগোপন। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সাবেক মোতওয়াল্লী তার নিয়োগকৃত খতিবকে দিয়ে প্রায় জুম্মার নামাজে রাষ্ট্র বিরোধি উস্কানিমূলক আলোচনা করান। সম্প্রতি একলাশপুরে পহেলা বৈশাখে র্যালিতে অংশ গ্রহণকারীদের মুসরিক বলেন খতিব। ওই খতিব বলেন, শুধু একলাশপুরের র্যালিতে যারা অংশ নিয়েছেন, বা যিনি উদ্বোধন করেছেন তিনি মুসরিক নয়। পুরো দেশে যারা যারা করছেন এমনকি যদি প্রধানমন্ত্রী করে থাকেন তাহলে তিনিও একই। তাদের সকলকে পুনরায় তওবা করতে হবে, না হয় তারা মুসলিম হিসেবে যা যা করবেন তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমন বক্তব্যে বিরোধিতা করেন মুসল্লিরা। এ নিয়ে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়ে চাঞ্চল্যকর অবস্থা। পরবর্তীতে মুল্লিদের দাবির মুখে ওই খতিবকে অব্যাহতি দেয় কমিটি। এটাকে কেন্দ্র করে মিজানুর রহমান বিভিন্ন স্থান থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে মসজিদ, একলাশপুর বাজারের আশপাশে হামলাও চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশ গুলিও করে। আগামী দিনেও সম্পত্তি দখলসহ এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এ সদস্য।
আশংকা শুধু কমিটির সদস্যদের মধ্যে নয়। পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে গত ৩১ মে শুক্রবারও স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করে। এমন অবস্থায় মসজিদের জায়গা দখল ও এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কমিটির সদস্য ও এলাকার সাধারণ মুসল্লীরা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক মোতওয়াল্লী মিজানুর রহমানের সঙ্গে সেলফোনে কথা হয়। তিনি বলেন, তার সঙ্গে জায়গা-জমি নিয়ে কমিটির সঙ্গে কোনো ঝামেলা নেই। যা ছিল তা স্থানীয় সাংসদসহ মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন তার কাছে যে জায়গা দাবী করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার সম্মান নষ্ট করতে বর্তমান কমিটির লোকজন প্রবাকান্ডা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সম্পত্তি দখল বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্ব থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোস্তফা জাবেদ কায়সার। তিনি বলেন, সম্প্রতি মসজিদের খতিব নিয়োগকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উদ্ভুদ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন শুরু থেকেই তৎপর রয়েছে। জুম্মার নামাজগুলোতে নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। তাছাড়া সকল প্রকার সমস্যা সমাধে স্থানীয় সাংসদ, চেয়ারম্যান ও প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।