রাইসুল আলম রবিন,খুলনা প্রতিনিধি:কেউ বলে ঈদ সেলামি, কেউ বলে ঈদ বকশিশ, কেউ বলে ইফতার পার্টি, কেউ বলে সামনে ঈদ আমার দলের ছেলেদের একটু দেখে রেখেন, কেউ বলে আসসালামু আলাইকুম ভাই- এটা কিন্তু ঈদের সালাম।
ঈদকে সামনে রেখে এভাবে নানা নামে নগরীর বিভিন্ন মার্কেট, ফুটপাতের দোকান, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার, বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি চলছে। রমজানের শেষ সময় চাঁদা তুলতে তৎপর চাঁদাবাজরা। তবে এবার ঈদের নতুন আকর্ষণ টাকার পরিবর্তে পণ্য দাবি।
ঈদ উপলক্ষে শেষ সময় চাঁদা তুলতে ব্যস্ত অনেকেই। তবে যে যাই বলুক স্থানীয় চাঁদাবাজরা এটিকে চাঁদাবাজি বলতে নারাজ। অপরদিকে চাঁদাবাজরা বরাবরই ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করায় বা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় জীবনের ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ ভুক্তভোগীরা।
তবে এ বছর বাজার মূল্যের সাথে মিল রেখে ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে চাঁদার পরিমাণও। প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এসব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সোনাডাঙ্গার এক ব্যবসায়ী রহিম মিয়া (ছদ্ম নাম)। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কী ব্যবসা করি সকলকে ঈদের সালামি দিতে? এদের চাঁদা নেবার নানা কৌশলের কাছে আমরা অসহায়। চাচা, দাদা, মামা, বড় ভাই, কত সুন্দর সুন্দর নামে ডেকে, ঈদ সেলামি, ঈদ বকশিশ, ইফতার পার্টি, আবার কেউ কেউ বলছে, বস, সামনে ঈদ। ছোট ভাই-ব্রাদারদের দিকে খেয়াল রাখবেন। দলের ছোট ভাই-ব্রাদারদের একটু খুশি করতে হবে, এ জন্য কিছু বকশিশ দিয়েন বলে চাঁদা নিতে আসে। কষ্টের কথা কী বলব হিজড়াদেরও রেট এখন বাড়তি ৫০০-১০০০ টাকার কমে যায় না। আবার আমরা কাউকে কিছু বললে, হয় ব্যবসা বন্ধ করে চলে যেতে হবে। না হয় মৃত্যুকে সামনে নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। প্রশাসন কতক্ষণ পাশে থাকবে। তাদের আনতে গেলেও টাকা দেওয়া লাগে। সে তুলনায় টিকে থাকতে হলে এ সকল চাঁদাবাজদেরই টাকা দেওয়া ভাল।
ক্যাবল ব্যবসায়ী মোঃ লিটন বলেন, আগের তুলনায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি কমলেও এখন নিজেদের গা বাঁচিয়ে চাঁদাবাজি করছে চাঁদাবাজরা। এছাড়া এরা যেভাবে টাকা চায় তাতে করে, এদেরকে চাঁদাবাজ বলা যায় না। আবার ইচ্ছা করে দিয়েছি এটাও বলতে পারি না। আমরা পড়েছি আসলে জ্বালায়।
ব্যবসায়ী কাজী শামিম বলেন, আমার কাছে এক নেতা ঈদের বকশিশ হিসেবে জামা দাবি করলে বেশি কথা বলে তাড়িয়ে দিয়ে এখন আমি চিন্তিত। ঈদের পর কখন কোন বিপদ আমার ওপর ভর করে।
আবার স্থানীয় ক্লাব ব্যানারেও চলছে চাঁদাবাজি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশের লাইনম্যান, সোর্স ও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরাও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এডিসি মিডিয়া মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এ সকল চাঁদাবাজদের রুখতে আমাদের প্রত্যেকটা মার্কেটে বাড়ানো হয়েছে ডিউটি। তবে এ সকল মৌসুমী চাঁদাবাজদের কোনো অভিযোগ সাধারণত আমাদের কাছে আসে না। এ সকল চাঁদাবাজদের রুখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। চাঁদাবাজদের রুখতে পুলিশ-র্যাবসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। রাজনৈতিক ব্যানারে কেউ চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ কর্মকা- চালানোর তথ্য প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড়া হচ্ছে না এবং হবেও না। তাছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ রয়েছে।