রেজাউল করিম বিপ্লব(ময়মনসিংহ):ঈশ্বরগঞ্জে এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিরকুট লিখে আত্মহত্যার চেষ্ঠা চালায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রী তিন দিন ধরে কথা বলতে পারছে না। অভিযোগ উঠছে ধর্ষণের ঘটনাটি প্রভাব শালি মহল সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়ার । এ ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি। পুলিশ আটকৃত কলেজ ছাত্র ধর্ষক ইয়াসিনকে সোমবার ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করেছে।
এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মরিচারচর গ্রামে শুক্রবার রাতে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) প্রকৃতির ডাকে ওই দিন রাতে নিজ ঘর থেকে বাহিরে গেলে প্রতিবেশি বাবুল মিয়ার পুত্র ইয়াসিন (২০) জোরপূর্বক তাকে ধরে নিয়ে পার্শ্ববতী একটি স্কুলের পাশে ধর্ষণ করে। গভীর রাতে কৌশলে সে ধর্ষকের হাত থেকে পালিয়ে বান্ধবির বাড়ি চরআলগী গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। রাতেই বান্ধবির বাবা শাহজাহান বিষয়টি ধর্ষিতার বাবা গাজী মহসিন উজ্জলকে অভহিত করেন। শনিবার দুপুরে ধর্ষিতা শাহজাহানের ঘরের আড়ার সাতে গলায় দরি দিয়ে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্ঠা চালায় । এ সময় শাহজাহানের স্ত্রী ও তার পুত্র ধর্ষিতাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে ডাকচিৎকার শুরু করলে বাড়ির লোকজন উদ্ধার করে তার পরিবারকে বিষয়টি জানানোর পর স্কুল ছাত্রীকে আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সোমবার সরেজমিন চরআলগী শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী ও বাড়ির লোকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, মেয়েটি শুক্রবার গভীর রাতে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে শুধু কান্না কাটি করছিল। শনিবার দুপুরে স্কুল ছাত্রী বান্ধবির বাড়ি থেকে মোবাইলে তার বাবার সাথে কথা বলার পরেই সে আত্মহত্যার চেষ্ঠা করে। স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার চাচা একরাম হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ২ বছর বয়েসেই মেয়েটির মা মারা যায়। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করে। মেয়েটি দাদা দাদীর সাথে বাড়িতে থাকত দাদা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী। এ সময় একরাম হোসেন সহ বাড়ির লোকজন জানায় চিরকুট সে তার ধর্ষণের কথ্ উল্লেখ করে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহাম্মদ কবির হোসেন জানান, ঘটনার সাথে জড়িত আটকৃত ইয়াসিনকে ৫৪ ধারায় ময়মনসিংহের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।