বায়েজীদ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার বাজার থেকে কথিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্লাস্টিকের চাল আটকের ঘটনায় গুজবে সয়লাব পুরো জেলা।
মঙ্গলবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি ছিল টক অব দ্য টাউন। ওই গুজবের প্রভাব পড়েছে ক্রেতাদের মধ্যেও । বিষয়টির সত্যতা যাচাই না করতে পেরে বিভ্রান্ত সাধারণ ক্রেতারা বাজারে গিয়ে চাল নেড়েচেড়ে দেখে দোকানীকে নানা প্রশ্ন করছেন।
জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হবার আহবান জানান। চালের উৎপাদন ও ব্যবসার সাথে জড়িতরা বলছেন, প্লাস্টিকের চাল বলে কিছু হতে পারে তা তাদের জানা বা দেখা নেই। এটি নিছক গুজব ও মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ছড়ানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, সোমবার গাইবান্ধার নতুন বাজারে প্লাস্টিকের চাল বিক্রি হচ্ছে- এমন অভিযোগ করেন জেলা শহরের মুন্সিপাড়ার আলি হায়দার রণি নামে এক ক্রেতা।
তিনি ৬ কেজি চাল কিনেছিলেন। কিন্তু রান্না করার পর তা বিস্বাদ লাগে। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার পুলিশ নিয়ে শহরের নতুন বাজারের ব্যবসায়ী রুবান দেওয়ানের চাল ঘরে অভিযান চালান।
এ সময় দেড় বস্তা চাল জব্দ করা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই চালে আগুনের উত্তাপ দিয়ে প্লাস্টিকের কি না তা পরিক্ষার চেষ্টা করলে চালগুলো পুড়ে যায়। এতে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ আমলে নিয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন কর্মকতা মো. মাসুম আলী চালগুলো জব্দ করেন।
আরও বেশ কিছু দোকানেও অভিযান চালানো হয়। চাল জব্দ হওয়ার পর থেকেই মুখে মুখে শুরু হয় নানা কাহিনী, জেলাজুড়ে গুজবের ছড়াছড়ি। সমস্যায় পড়েন ব্যবসায়ীরা।
শহরের পুরনো বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, চাল কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরীজীবি। তিনি বললেন, বুঝতে পারছি বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যে। তারপরও একদিন অপেক্ষা করে চাল কিনব বলে ফিরে যাচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুর রহমান জানান, কোন দোকানে প্লাস্টিকের চাল থাকার প্রশ্নই ওঠে না। ওই রকম কোন চাল ব্যবসায়ীরা কোনদিন দেখেছেন বলেও মনে হয়না। কিন্তু মিথ্যে গুজবে ব্যবসায়ীদের অহেতুক নানা প্রশ্নের সামনে পড়তে হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত ওসমান জানান, জেলায় আগে কখনও কথিত প্লাস্টিকের চাল নিয়ে জেলা কৃষি বিভাগের কাছে এ ধরনের অভিযোগ আসেনি।
আর প্লাষ্টিক দিয়ে চাল তৈরিরও কোন সম্ভাবনাও নেই। কে বা কারা এটি প্রচার করে মানুষকে হয়রাণি করছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও গুজব ছড়ালে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
তিনি বলেন, প্লাস্টিক দিয়ে চাল তৈরি হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই এবং জব্দ করা সেই চাল ভিজিয়ে ও রান্না করে দেখা গেছে এটি নিম্নমানের হতে পারে তবে স্বাভাবিক চাল। ভাতও স্বাভাবিক। তিনি এ নিয়ে বিভ্রান্ত বা আতংকিত না হওয়ার আহবান জানান।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোকসানা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. তোফায়েল হোসেন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. শওকত ওসমান, জেলা মার্কেটিং অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায়সহ অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ওই চাল প্লাস্টিকের কি না তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।