শিরোনাম :
ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে বিসিবির ‘ডি থ্রি ট্রফি’: ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে শীর্ষে শরিফুল বিকল্প শিরোনাম ২: মধ্যরাতেই ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’ : সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর সংকেত ৯ মাসে ১০৯ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার: আইনি দুর্বলতায় থমকে যাচ্ছে মাদ্রাসার বিচারপ্রক্রিয়া চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবারুণ অরুণ প্রভায় জাপানে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব: শামা ওবায়েদ বিহারের সিওয়ানে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: দুই শিশুসহ নিহত বেড়ে ৫ ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণের সময় মাঝআকাশে দুই সামরিক বিমানের সংঘর্ষ, ৪ পাইলট নিহত বিশ্ব শান্তিরক্ষা ও সমন্বিত অগ্রযাত্রায় চীনের ‘নতুন দীর্ঘ মার্চ’ বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক চালিকাশক্তি চীন-কেনিয়া দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বে নতুন গতি: সিএমজির বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্পিকার

রঙ্গিন মাছের কারিগর সাইফুলের স্বপ্ন

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী, ২০১৯

মোস্তাক আহমেদ, কলারোয়া : সাতক্ষীরায় পুকুরে রঙ্গিন মাছের চাষে (অ্যাকুয়ারিয়ামের জন্য) সফলতা অর্জন ও স্বাবলম্বী হয়েছেন কলারোয়া উপজেলার  ব্রজবকসা গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৮)।  জেলায় পরিচিতি পেয়েছেন ‘রঙ্গিন মাছের কারিগর’ হিসেবে। তিনিই প্রথম সাতক্ষীরায় পুকুরে রঙ্গিন মাছ চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টির পাশাপাশি নিজের ভাগ্যকেও রঙ্গিন করে তুলেছেন। নিজের স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন করে  ‘রেজা অ্যাকুরিয়াম ফিস’ নামে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পানি ও মাছের সাথে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে আজ সফল রঙ্গিন মাছের কারিগর সাইফুল ইসলাম এখন উপজেলার বেকার যুবসমাজের আইকন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবারিক অস্বচ্চলতার কারনে পড়াশুনার ইতিটেনে রাজধানী  ঢাকার মিরপুর এলাকায় এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টারিতে চাকরি শুরু করি। সেখানে প্রায় দুই বছর চাকরি করে বাড়ীতে ফিরে আসি। কিছুদিন পর ভালো কাজের আশায় ভারতে যায়। সেখানে পরিচিত এক বন্ধুর সহযোগিতায় অল্প বেতনে একটি রঙিন মাছ উৎপদনকারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করি। সেখানে আমি মনোযোগ মহকারে কাজ করতে থাকি। একই সাথে কিভাবে রঙ্গিন মাছ উৎপাদন করা হয় এই পদ্ধতিগুলি দ্রত রপ্তকরি। তিনি বলেন, ভারতে এক বছর কাজ করার পর উক্ত প্রতিষ্ঠান ছেড়ে বাড়ীতে ফিরে এসে নিজে রঙ্গিন মাছ চাষের চেষ্টা শুরু করি।
তিনি আরো বলেন, ৬২০ টাকা পুজি নিয়ে আমি মাছ চাষের শুরু করি। সে সময় ৬২০টাকা দিয়ে ভারতে থাকা বন্ধুটির সহযোগিতায় ছয় জোড়া (১২টি) রঙ্গিন মাছ কিনে বাড়ীর পুকুরে অল্প জাইগায় নেটেঘেরা স্হানে মাছ চাষ করতে থাকি। এ সময় রঙ্গিন মাছ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী মাছের পরিচর্যা করার কিছুদিন পর মাছগুলি শত শত ডিম ছাড়তে শুরু করে, বৃদ্ধি পাই মাছের সংখ্যা। এরপর থেকে আমার স্বপ্ন সাফল্যে গতি পায়। সাইফুল বলেন, নিজ অভিজ্ঞতায় প্রজননের সময় বিশেষ পদ্ধতিতে ডিমে জিং ব্যবহার করে কিছু মাছের রং বদলে দিতে সক্ষম হই। পরে এই রঙ্গিন মাছ সাতক্ষীরা সদরে কয়েকটি  অ্যাকুরিয়াম ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে ভালো দাম পায়। এরপর থেকে বানিজ্যিক ভাবে রঙ্গিন মাছ উৎপাদনের কাজ শুরু করি। আর্থিক সংকটের কারনে বেসরকারি সংস্হা(এনজিও) ঢাকা আহছানিয়া মিশন থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ উৎপাদনের কাজ শুরুকরি। পরবর্তীতে পুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মাছের ডিম প্রজননের জন্য আলাদা নার্সারি  র্তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, একপর্যায়ে  রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্হানের ব্যবসায়ীরা আমার সাথে যোগাযোগ করে উৎপাদিত রঙ্গিন মাছ কিনে বিভিন্ন স্হানে বিক্রি করতে থাকে।
এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, সাইফুলের  অক্লান্ত শ্রম, মেধা ও দক্ষতায় বর্তমানে ২৪টি পুকুর লিজ নিয়ে বানিজ্যিকভাবে রঙ্গিন মাছের উৎপাদন করছে, এখানে ২৭জন শ্রমিকের কর্ম সংস্হানের সুযোগ হয়েছে। নিজে তৈরি করেছেন রেজা অ্যাকুরিয়াম ফিস নামে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে তার কাছে রয়েছে বিশেষ পদ্ধতিতে উৎপাদন করা ২৫ প্রজাতির বাহারি রংয়ের মাছ। এরমধ্যে  কমেট, কই কার্প, গোল্ড ফিস, অরেন্ডা, মিল্কি, সিল্কি, কিচিং গোরামিনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। প্রতিটি মাছ (শ্রেণী বিশেষ) সর্বনিন্ম ১২ টাকা ও সর্বোচ্ছো১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
রঙ্গিন মাছের কারিগর বলেন, তার উৎপাদিত মাছের বেশি চাহিদা ঢাকার কাটাবন অ্যাকুরিয়াম মার্কেটে এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, যশোর, বরিশাল, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্হানে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি কলারোয়ায় উৎপাদিত  রঙিন মাছ বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব দাবি করে বলেন, সরকার  সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ বেকার যুবকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্হা করলে এ রঙ্গিন মাছ উৎপাদন আরো বেশি উৎপাদন হবে। তবে এরমধ্যে তিনি এলাকার কয়েকজন যুবককে উৎসাহ দিয়ে রঙ্গিন মাছের চাষ করতে সহযোগিতা করছেন বলে তিনি জানান।
কলারোয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: বজলুর রহমান জানান, আমরা চেষ্টা করছি তাকে সার্বিক সয়াহতা করার জন্য এবং আরো কয়েকজন মাছ চাষীকে রঙ্গিন মাছ চাষের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে । তিনি বলেন, দেশীয় প্রতিকুল আবহাওয়ায় এই মাছ উৎপাদন হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানিকৃত মাছ থেকে সাইফুল ইসলামের উৎপাদিত মাছ অনেক বেশি টেকসই হওয়ায় ঢাকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে মাছ কিনে ব্যবসা করছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD