জার্মানবাংলা রিপোর্টঃ ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে’, তা সভা-সমাবেশে বেশি করে বলতে দলের নেতা ও মন্ত্রীদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা গতকাল রবিবার বলেন, দেশি-বিদেশি সভা সেমিনারে যে যেখানে যাবেন সবাই একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলবেন। কারণ দলীয় সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা আমাদের অর্জন। কিন্তু আমাদের অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী শক্তিগুলো উঠেপড়ে লেগেছে। তার মতে, বিএনপিসহ তাদের ঘনিষ্ঠরা একাদশ সংসদ নির্বাচনকে দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাই এ নির্বাচন নিয়ে দলের সবাইকে সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি নিজেও তা করবেন বলে জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বিএনপি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে দেশে-বিদেশে। তারা ভোট কারচুপি, অনিয়ম দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন। অথচ তারা তাদের ব্যর্থতার দায় নিতে চায় না। তাই সবাইকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে।
ওই নেতাদের ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে তারা দেশে যেমন বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কথা বলছে, তেমনি বিদেশেও লবিস্ট নিয়োগ করছে বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে। টান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) মতো আরও বিভিন্ন সংগঠনের বিবৃতি এরই অংশ। দেশি-বিদেশি অন্য সংগঠনগুলোও নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিতে পারে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। তাই নানা মহলের সমালোচনার ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন তিনি।
ক্ষমতাসীন দলের চারজন কেন্দ্রীয় নেতা আরও বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয়েছে, ভোটাররা যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সারিবদ্ধভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে, এর ভিডিওচিত্র ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংগ্রহ করছে আওয়ামী লীগ। এগুলো তারাও দেশে-বিদেশে পাঠাবেন। বিভিন্ন দূতাবাসে সরবরাহ করবেন।
ওই নেতারা বলেন, বিএনপিসহ অন্য দলগুলো নির্বাচনে হেরে রাজনীতি থেকে সিটকে পড়েছে, জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তা মেনে না নিয়ে নির্বাচন বিতর্কিত করে রাজনীতিতে ফিরতে চায় তারা। এর জবাব দেওয়া হবে বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি ও তাদের দোসররা ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে চায়। তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এখন নির্বাচন বিতর্কিত করে রাজনীতিতে ফিরতে চায়। তাদের এই ষড়যন্ত্রও বাস্তবায়ন হবে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, বিএনপিসহ তাদের অনুসারীরা সব সময়ই নেতিবাচক রাজনীতির চর্চা করে। আগামীতে এর থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশের রাজনীতি থেকে তারা হারিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এখন তারা চায় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো এখন একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করে ফিরে আসতে চায় রাজনীতিতে। জনগণ যে তাদের প্রত্যাখান করেছে- তা স্বীকার না করে তারা নির্বাচন নিয়ে মিথ্য তথ্য দিয়ে বিদেশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়।