প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চার দিনের জাপান সফরে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের বিপুল ব্যয় হ্রাস এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি দুই দেশের অবকাঠামো উন্নয়নসহ কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার বিষয়টিতেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে এর মধ্যে তিন থেকে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-১-এর ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫-এর ব্যয় ১১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ঋণের সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব জানান, অবকাঠামো নির্মাণে জাপানের কাছে কারিগরি ও আর্থিক ছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং দুই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে স্থান পাবে। সুদের হার কমানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময়ই নমনীয় সুদে ঋণ পেতে আগ্রহী। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়ও জড়িত থাকে; বৈঠকের পরই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট ফলাফল স্পষ্ট হবে।
বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পে জাপানের অবদান অপরিসীম। গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পর বাণিজ্য ও বিনিয়োগের যে নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে তা আরও গতি পাবে। বিশেষ করে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সফরের রূপরেখা তুলে ধরে পররাষ্ট্রসচিব জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি এবং তাঁর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন। এ ছাড়া জাইকা (JICA) প্রেসিডেন্ট, জেবিআইসি (JBIC) গভর্নর, জেট্রো (JETRO) সভাপতি এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবে।
সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও পররাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য