শিরোনাম :
শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগ, মেলানিয়ার আয়োজনে বাংলাদেশের ডা. জুবাইদা রহমান নেপালে তুষারধসে নিহত ১৫ অভিযাত্রীকর্মী, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত জাতীয় দিবসে হংকংয়ে এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র অগ্রযাত্রার বার্তা চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সি চিন পিংকে শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান বিষাক্ত ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, ভেন্টিলেটরে ক্রিস্টিয়া পাইক তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাতের ঘোষণা চিফ হুইপের কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামবাহী বহর এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিয়ের তথ্য বাংলাদেশকে শক্তিশালী বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সহিংসতায় গ্রেপ্তার ১,৭৪৭

নির্বাচনে পক্ষপাতদুষ্ট সিইসির পদত্যাগ দাবি ঐক্যফ্রন্টের

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮
জার্মানবাংলা রিপোর্ট: অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে মেরুদণ্ডহীন পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে নির্বাচন কমিশনকে মুক্ত করা অনিবার্য্য প্রয়োজন বলে মনে করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

মঙ্গলবার সকালে সিইসির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠকে সিইসির আচরণের সমালোচনা করেন বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন নয়, হোলি খেলা হচ্ছে।

পরে সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমে একটি লিখিত বিবৃতি পাঠান। পাঠকদের উদ্দেশ্যে পুরো বিবৃতিটি হুবহু ছাপা হলো-

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লিখিত বিবৃতি
আজ বেলা ১২টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আমরা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনারগণ ও সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করে সারা দেশে বিরোধী দলীয় প্রার্থীগণ এবং তাদের সমর্থকদের সাথে সরকার দলীয় সন্ত্রাসী ও পুলিশের অন্যায়, অসাংবিধানিক ও মারমুখী আচরণ, অনেক প্রার্থী এবং তাদের কর্মীদের ক্সদহিকভাবে আহত ও নিগৃহিত করা, কয়েকজন প্রার্থীসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থী এবং প্রার্থীর সহযোগীদের আত্মীয়-স্বজনের সাথে দুর্ব্যবহার ও গ্রেফতার করা, বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়ার বিভিন্ন অভিযোগ তথ্য প্রমাণসহ উত্থাপন করা হয়। গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা গণফোরাম সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চুন্নুকে বাড়ি থেকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যায়।

আলোচনায় ড. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রশাসন ও পুলিশের ক্রমাগত অসহযোগীতা এবং বহু ক্ষেত্রে আক্রমণকারী সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আক্রমণের শিকার বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করার বিষয়ে দিন, তারিখ, স্থান উল্লেখ করে অভিযোগ জানান।

তারা নির্বাচনকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ন্ত্রন ও পরিচালনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনকে এসব ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের এবং ইতোমধ্যেই যে সব সরকারি ও পুলিশ কর্মকর্তা-দলীয় কর্মীর মত আচরণ করেছে। তাদের নির্বাচনী কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখার কিংবা অবিলম্বে বদলী করার দাবি জানান।

কিন্তু অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে আমাদেরকে বলতে হচ্ছে যে, ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের যুক্তিগ্রাহ্য ও প্রমাণ সিদ্ধ বিষয়গুলিকে অগ্রাহ্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতাসীন দলের নেতার ভাষায় অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে পক্ষপাত দুষ্ট ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিলে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ শুধু ক্ষুব্ধ নন, বিস্মিত ও হতাশ হন। নির্বাচন কমিশনের মত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এমন অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিতে পারে তা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। এই ঘটনায় স্পষ্টতই প্রমাণ হয়েছে যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে নিয়োগদানকারী ক্ষমতাসীন সরকারের অতি বাধ্যগত একজন কর্মচারীর চেয়ে আর বেশি কিছু নন। তার নিকট থেকে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচন তো দূরের কথা নিরপেক্ষ আচরণ পাওয়ার ও কোন সম্ভাবনা নেই।

এমতাবস্থায় আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে এমন একজন মেরুদন্ডহীন পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে নির্বাচন কমিশনকে মুক্ত করা অনিবার্য্য প্রয়োজন বলে মনে করি।

আমরা, অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি এবং যথার্থই একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ করার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট দাবি জানাচ্ছি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আজও সারাদিনে সারা দেশে অসংখ্য প্রার্থী এবং তাদের কর্মীদের উপর সরকারি দল এবং পুলিশের হামলা অব্যাহত রয়েছে। আজ সন্ধ্যায় ঢাকা ৩ নির্বাচনী এলাকায় চুনকুটিয়া গ্রামে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তার সাথে থাকা অন্তত: ৩০জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি এ্যাড. সুব্রত চৌধুরীকে ঢাকার সিদ্দিক বাজার এলাকায় প্রচার মিছিল চালানোর সময় পুলিশের সহযোগীতায় সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা আক্রমন করে। এখানে এ্যাড. রাসেলসহ তার চারজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১০-১২জন কর্মী আহত হয়েছে।

সারা দেশ থেকে আমরা প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও গ্রেফতারের খবর পাচ্ছি। এসব অবস্থার অবসানের জন্যই আমরা আজ নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারই যেহেতু নিরপেক্ষ নির্বাচনে আগ্রহী নয় সেহেতু জনগণকেই আমরা এসব নির্বাচন বিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD