জার্মানবাংলা ডেস্ক: একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নতুন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্বপ্নকে উস্কে দেয়া আবেগময় ভাষা ও দীপ্ত উচ্চারণে তিন মিনিটের একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ আহ্বান জানান তিনি। ভিডিও বার্তায় বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে সরাসরি ভোট চাননি তিনি। তবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার এ আবেগী আহ্বান মনোযোগ কেড়েছে সব মহলের। সস্তা বুলি বা আড়ম্বর নয়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নিজের অধিকার পুনঃরুদ্ধারের স্বপ্ন তিনি তার ঋজুভাষায় সবার মাঝে চারিয়ে দিয়েছেন তেজোদীপ্ত উচ্চারণে।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন- ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আপনারা যারা এবারই প্রথম ভোট দেবেন, তাদেরকে আমি কিছু কথা বলতে চাই। আমার বয়স যখন আপনাদের মতো, তখন আমরা যুদ্ধ গিয়েছিলাম দেশটাকে মুক্ত করবো বলে।
তখন আমাদের চারপাশে অনেক মানুষ ছিল। তারা বলতো যে, পাঞ্জাবিদের সাথে যুদ্ধে আমরা কোনোদিনও পারবো না। মেরে কেটে ওরা শেষ করে দেবে। ওদের ট্রেইন মিলিটারির বিপরীতে আমরা হলাম বাচ্চা ছেলেপেলে। তারা আসলে ভয় পেতো। যুদ্ধে পার্টিসিপেট না করার অনুতাপে কাতর ছিল তারা। আমরা সেদিন তাদের কথা শুনিনি। বড় বড় পাকা পাকা বিশ্লেষণে কান দেইনি। আমরা শুধু আমাদের মনের কথাটা শুনেছিলাম। শুধু একটা স্বপ্নকে তাড়া করেছিলাম। দেশটাকে মুক্ত করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে বাংলাদেশ। আমার বয়স এখন সত্তুর। আমি এই বয়সেও সেই একই স্বপ্ন তাড়া করছি। আমি তো আশায় ভরপুর। আপনারা কী স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছেন। আমাকে বহু মানুষ বলে, ভোটে তো স্যার আপনারাই জিতবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ আপনাদের রেজাল্ট খেয়ে ফেলবে। কারণ হলো আওয়ামী লীগের সমীকরণে আপনারা নেই। তারা আপনাদের তাচ্ছিল্য করে। ডু দেইম। উই ডোন্ট ম্যাটার। তাদের পরিকল্পনা, এমন সন্ত্রাস করো- ২৯ তারিখ পর্যন্ত যেন আপনারা পোলিং সেন্টারে যাওয়ার আগ্রহটাই হারিয়ে ফেলেন। এমন এক ন্যারেটিভ তারা বাংলাদেশে দাঁড় করিয়েছে। যে আপনি যাকেই ভোট দেন, আপনার রাজনৈতিক জাজমেন্ট যাই হোক না কেন সেই ভোটকে, বিশ্বাসকে চুরি করে পাল্টে দেবে। আমি বলি কী? আপনারা ওদের দেখিয়ে দিন। যে আপনারাই বাংলাদেশ। দেখিয়ে দিন, ইউ ম্যাটার। আপনারা এদেশের মালিক। এবং আপনার ভোটেই ঠিক হবে এদেশের ভবিষ্যৎ। আপনার বিবেচনা যাকে বলে, তাকেই ভোট দিন। আমি সেই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু ভোট আপনারা অবশ্যই দেবেন। সকাল সকাল দেবেন। দেখিয়ে দিন যে, আপনারাই বাংলাদেশ। যৌবনে আমরা এই দেশটার জন্যই যুদ্ধ করেছিলাম। বার্ধক্যে এসে আপনাদের কাছে আমি শুধু একটি দিন চাইছি। ৩০শে ডিসেম্বর। শুধু একটা দিন। বাংলাদেশের জন্য। ৩০শে ডিসেম্বর সকাল সকাল ভোট দিন। দেখিয়ে দিন যে, আপনারা ভোট দিতেই জানেন না, ভোট ডাকাতিও আটকাতে পারেন। গণতন্ত্রটা বাঁচাতে হবে। একটা আলো আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম আমাদের যৌবনে। যেটা আমরা আপনাদেরকে দিতে চাই। এই আলোটা আপনারা শুধু আপনাদের সন্তানদের কাছে পৌঁছে দেবেন, তাহলেই হবে। আলোটাকে নিভতে দিবেন না।’