জার্মান-বাংলা রিপোর্ট: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক নিউরো সার্জন অধ্যাপক সৈয়দ ওয়াহিদুর রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রস্রাবে বার বার ইনফেকশন হওয়ায় কিডনি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আগে থেকেই কিছু ক্রনিক্যাল ডিজিজে ভুগছেন। তার আর্থারাইটিসের (বাত) সমস্যা আছে অনেক আগে থেকেই। তার সারা শরীরে ব্যথা। তার দীর্ঘকালের ডায়াবেটিস এবং ব্লাড প্রেসার আছে। তার প্রস্রাবের ইনফেকশন আছে। এবং বার বার ইনফেকশন হওয়ায় কিডনি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ওনার রাতে রাতে একটু একটু করে জ্বর হচ্ছে। ওনার উঠতে বসতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। এবং আগে দুই চোখেই অপারেশন হওয়ায় চোখ দু’টি লাল হয়ে আছে।
ওয়াহিদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে আরো বলেন, সর্বশেষ ৫ তারিখ তিনি মাথা ঘুড়ে পরে যান। তার সাথে থাকা এটেনডেন্ট মেয়েটি তাকে তোলে। এই যে ৫ থেকে ৭ মিনিটে তিনি পড়ে গেলেন এবং তাঁকে তোলা হল- এই সময়ের ঘটনা তিনি মনে করতে পারছেন না। উনি বসে থাকতে পারছেন। কিন্তু হাঁটলে বা দাঁড়ালে যেকোনো একদিকে হেলে যাচ্ছেন।
‘‘এখন যেটা হয়েছে তাকে আমরা বলি ব্রেইনে ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক। এর ফলে মস্তিস্কে রক্ত চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়। এখন উনি স্বাভাবিক আছেন। কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হল আগে যে তার রোগ এবং বর্তমান যে অবস্থা এবং যা বয়স তাতে তিন মাসের মধ্যে স্ট্রোকে টার্ন করতে পারে। এখনো হয়নি। তবে আশঙ্কা আছে।
এদিকে খালেদা জিয়া যে ৫ জুন মাথা ঘুড়ে পরে গিয়েছিলেন সে খবর কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না বলে শনিবার জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। খালেদা জিয়াকে কখন হাসপাতালে নেওয়া হবে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দুপুরের পর নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিক কখন খালেদা জিয়াকে পরীক্ষার জন্য নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করবেন আইজি প্রিজন্স। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) বড় বড় চিকিৎসক ও গবেষকরা রয়েছেন৷ আর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা তো আছেনই। সুতরাং সেখানেই তাঁর চিকিৎসা হবে।