জার্মানবাংলা২৪ ডটকম: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের মঞ্চে জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে জঙ্গিরা। হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীণ মহিলা বিষয়ক সম্পাদিক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই নৃশংস ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে বিচারের রায়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার পর বুধবার ১০ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত
মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও তৎকালিন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। সেখানে হামলা, হামলা পরবর্তী যা ঘটেছে এবং যারা জড়িত তাদের বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে যারা দোষী তাদের উপযুক্ত শাস্তি হবে বলে আশা করছি।’
সিআইডি পুলিশ জানায়, সর্বশেষ তদন্তে এ মামলায় আসামি করা হয় ৫২ জনকে। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মামলার অন্যতম আসামি প্রাক্তন মন্ত্রী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুলের ফাঁসি হয়। এ কারণে তাদের আসামি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর ৪৯ আসামির মধ্যে ৮ জন জামিনে, ১৮ জন পলাতক ও ২৩ জন কারাগারে আছেন। জামিনে আছেন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, প্রাক্তন আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম। আর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে বন্দি আছেন। পলাতক রয়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির প্রাক্তন এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৮ আসামি।