ছবি: এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করে তিন দিনের সরাসরি গোলাবর্ষণ বা লাইভ ড্রিল মহড়া শুরু করেছে ইরান। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ সামরিক মহড়া চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
ইরানি কর্তৃপক্ষের জারি করা এক বিশেষ বিমান সতর্কবার্তায় (নোটাম) জানানো হয়েছে, নির্ধারিত এলাকায় ৫ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের বেসামরিক ও সামরিক উড্ডয়ন নিষিদ্ধ থাকবে। মূলত পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক চাপ বৃদ্ধির মুখে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। খবর জানিয়েছে সামা টিভি।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় এই মহড়া ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহণ করা হয়। ফলে এখানে যেকোনো সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে ইরানের এই মহড়া শুরু হলো, যখন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আইওয়ায় এক অনুষ্ঠানে ইরানের দিকে আরও একটি মার্কিন নৌবহর পাঠানোর ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, একটি ‘সুন্দর ও শক্তিশালী নৌবহর’ ইরানের দিকে পাঠানো হয়েছে এবং তেহরান শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
এরই মধ্যে পেন্টাগন এই অঞ্চলে যুদ্ধবিমান মোতায়েন এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ শুরু করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে সেটিকে সরাসরি শত্রুতা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাত হানা হবে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ছোট কিংবা বড়—যে কোনো হামলাকেই তারা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং তার কঠোরতম জবাব দেওয়া হবে। এই উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি ইসরাইলের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে তার জবাব এমন শক্তিতে দেওয়া হবে, যা ইরান আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় না থেকে ইসরাইল নিজের নিরাপত্তা ও পাল্টা হামলার বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।
পারস্পরিক অনড় অবস্থান, পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়া ও কূটনৈতিক হুঁশিয়ারিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামান্য ভুল হিসাবই এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে।
সূত্র: সামা টিভি।