শিরোনাম :
টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা ২৮তম শাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাঁচ বছরে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়লেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে অভিযোগ: ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সুরের মিলনমেলা, দুই দিনের আয়োজন শেষ করল সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ফ্রান্সে রেকর্ড দাবদাহে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের নতুন এল নিনোর প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, উষ্ণ হতে পারে ২০২৭ সাল সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়, নকআউট নিশ্চিত করল নরওয়ে

স্টুটগার্টে শরতের আনন্দধ্বনি: প্রবাসে বাঙালির একত্রিশ বছরের দুর্গাপূজা

ফাতেমা রহমান রুমা,জার্মানি:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

শরতের আকাশে ভাসে এক বিশেষ আবেশ। হেমন্তলগ্নের শিউলি ফুলের গন্ধ, কাশফুলের শুভ্রতা আর মৃদুমন্দ হাওয়ার সাথে জেগে ওঠে বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার আগমনে বাংলার মাঠে-ঘাটে, পাড়ায়-মহল্লায় যেমন আনন্দের ঢেউ ওঠে, তেমনি সেই আবেগ গিয়ে ছুঁয়ে যায় হাজার মাইল দূরে প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের হৃদয়ও।

একত্রিশ বছরের দীর্ঘ পথচলা। প্রবাসের মাটিতে বাঙালিরা গড়ে তুলেছেন দুর্গোৎসবের এমন এক ধারাবাহিক আয়োজন, যা আজ কেবল পূজা নয়, বরং সংস্কৃতির দীপশিখা। স্টুটগার্টের দুর্গাপূজা যেন হয়ে উঠেছে স্মৃতির ভাণ্ডার, যেখানে মিশে আছে ধর্মীয় ভক্তি, সামাজিক একতা এবং শিল্প-সাহিত্যের অনন্য সমাবেশ।

ষষ্ঠীর বেলাতেই উৎসবের সূচনা। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে ভক্তদের সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ। বিশেষ করে মহাঅষ্টমীর পূজায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণ, দুপুরের আয়োজন কিংবা সন্ধ্যার নৈশভোজ-সব কিছুতেই ফুটে উঠেছে মিলনের আনন্দ। প্রবাস জীবনের ক্লান্তি, একাকীত্ব আর দূরত্ব ভুলে গিয়ে মানুষ একে অপরের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন হাসি, গল্প আর দেশাত্মবোধে ভেজা স্মৃতি।

কেবল ধর্মীয় আচারেই থেমে থাকেনি এ উৎসব। বরং মঞ্চ ভরে উঠেছে সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকের বহুরঙা পরিবেশনায়। প্রবাসী শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করছে আগামী প্রজন্ম। দীপন, দিব্য, শ্রীজিতা, আরাধিকা, দীপা, দেবশ্রী ও সোমদের অংশগ্রহণে মঞ্চ পেয়েছে প্রাণের ছোঁয়া।

এবারের দুর্গোৎসবের এক অভিনব রূপ ছিল স্ট্রিট ফুড ফেস্টিভ্যাল। ফুচকা, জিলাপি, খিচুড়ি, কাবাব, বিরিয়ানি, ভাজাপোড়া—যেন প্রতিটি স্বাদে ফিরে এসেছে বাংলার আঙিনার স্পর্শ। শুধু বাঙালিই নয়, জার্মান নাগরিক ও আন্তর্জাতিক অতিথিরাও অংশ নিয়েছিলেন এই উৎসবে। তাঁদের বিস্ময়ভরা চোখ আর আনন্দঘন হাসি বলে দিচ্ছিল, সংস্কৃতির এ ভোজ কেবল পেট ভরায় না, হৃদয়ও ভরিয়ে তোলে।

স্টুটগার্টের দুর্গাপূজা প্রমাণ করে দেয়, বাঙালি যত দূরেই থাকুক, শিকড় থেকে সে বিচ্ছিন্ন নয়। এ পূজা কেবল ভক্তির নয়, এটি হলো সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা, প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সাথে বেঁধে রাখার এক মহতী উদ্যোগ।

উৎসব শেষে সবার মুখে উচ্চারিত হয়েছে একটাই প্রার্থনা-দেবী দুর্গা মঙ্গল করুন, দূর করুন অশুভ শক্তি, আর আশীর্বাদ করুন শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, নিঃসঙ্গতা ও অজানার শূন্যতার মাঝেও স্টুটগার্টের দুর্গোৎসব বাঙালির অন্তরজগৎকে নতুন করে আলোকিত করে তোলে।

স্টুটগার্টের দুর্গাপূজা আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন- তিমির গাঙ্গুলি, সঞ্জিত কুমার দাস, পরীক্ষিত কুমার রায়, প্রদীপ কুমার সাহা, অরুপ ও তুফানসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সঞ্জিতা সাহা।

স্টুটগার্টের দুর্গোৎসব তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি হলো প্রবাসের বুকে বাঙালিয়ানার দীপশিখা, যেখানে সংস্কৃতি, ভক্তি, মিলন আর ভালোবাসা একসূত্রে বাঁধা পড়ে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD