বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত জমিকে সবুজায়নের আওতায় আনতে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। আগামী পাঁচ বছরে রেলওয়ের মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থানে মোট ২৪ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত রেলসেতুর ভায়াডাক্টের নিচে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ধলেশ্বরী রেলসেতুর আশপাশের অব্যবহৃত রেলভূমিকে পরিবেশবান্ধব ব্যবহারের আওতায় আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভূমির কার্যকর ব্যবহারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, সিরাজদিখানের চর গলগলিয়া মৌজায় বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ১৮ দশমিক ৭০ একর পতিত ও কৃষিজমিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে। উদ্বোধনী দিনে ১০০টি ফলদ, ১০০টি বনজ এবং ৫০টি ঔষধি গাছসহ মোট ২৫০টি চারা রোপণ করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলওয়ের মালিকানাধীন অব্যবহৃত জমিতে পরিবেশসম্মত বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চলতি বছরই ১ লাখ ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন কক্সবাজারের ডুলাহাজরায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা নিজ নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে।