নিজস্ব প্রতিবেদক:
দৈনিক বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারি যে, বরিশাল জেলার আগৈলঝড়া উপজেলায় পয়সারহাট বাস স্ট্যান্ডে গোল্ডেন লাইন গাড়িতে চালক যাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায় যে, ১৫ মে ঢাকা থেকে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় তার বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যান। গত ১৮ মে রাতে আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট থেকে ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসে কর্মস্হলে যাওয়ার জন্য উঠেন। বাসে ওঠার পরই চালক আল আমিন তাকে একা দেখে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। বাসটি কয়েকটি স্হানে যাত্রাবিরতি করে। একসময় আল আমিন ওই নারীর পাশের সিটে বসে তার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। ভোররাতে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে বাস থামলে অন্য যাত্রীরা নেমে গেলে চালক আল আমিন তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। এ সময় ওই তরুণী যাত্রী চিৎকার করে রক্ষা পান। এঘটনা তার বান্ধবীকে জানালে ঘটনার শিকার তরুণীর বান্ধবীর ভাই আহসান হাবিব বাদী হয়ে আল আমিনের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় যৌন হয়ারানির মামলা করেন।
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কররায় ৮ম শ্রেনীর স্কুলছাত্রীকে একই এলাকার বখাটে ও রায়বাহাদুর ও তার সহযোগী কর্তৃক হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায় যে, লোহাগড়া উপজেলার চর ঝামারঘোপ গ্রামের লিয়াকত হোসেনের মেয়ে সুবর্ণা খানম স্হানীয় একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে দীননাথপাড়া গ্রামের আজমল হোসেনের ছেলে ওবায়দুর রহমান মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিত। বিষয়টি সুবর্ণা তার পরিবার ও শিক্ষকদের জানালে তারা ওবায়দুরকে সতর্ক করে দেন। অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানো হয়। তার পরও মেয়েটির পিছু ছাড়েনি ওবায়দুর।
গত ২২ মে ২০১৯ তারিখ শনিবার সকালে সুবর্ণা পাশের গোবিন্দপাড়া গ্রামে সহকারী প্রধান শিক্ষক শিপ্রা রানী বিশ্বাসের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় বখাটে ওবায়দুর ও তার বন্ধু দীননাথপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী কাবুল জমাদ্দার মোটরসাইকেল নিয়ে তার গতিরোধ করে। এ সময় তারা ওই ছাত্রীর হাত ধরে টানা-হেঁচড়া করতে থাকে। ছাত্রীটি চিৎকার দিলে বখাটেরা তাকে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে চলে যায়। এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন গুরুতর অবস্হায় তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আমরা লক্ষ্য করছি যে, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং কর্মে নিয়োজিত তরুণীরা রাস্তাঘাট, মার্কেট ও গণপরিবহণে প্রতিনিয়ত যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে নারী ও কন্যাশিশু নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং তাদের স্বাধীন চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে এবং যা দেশে সফল অগ্রযাত্রায় নারীর অংশগ্রহণে বাধার সৃষ্টি করছে।
এই অবস্হা থেকে উত্তরনের জন্য যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ বন্ধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের আলোকে পৃথক আইন তৈরিসহ রায়ের বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণসহ গণপরিবহণে যৌন নিফীড়ন বন্ধ এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বিধানসহ স্বাধীন চলাচল নিশ্চিতকরণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই ঘটনাদ্বয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি ও নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রী ও তরুণীর সুচিকিৎসাসহ তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি জানাচ্ছে। সেইসাথে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কারণ উদঘাটন করে এরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আশু কার্যকর বিশেষ ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছপ। নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিরোধে ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছে।