ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ৩৫ কি:মি দূরে রোডেনবাখ এক হাজার বছরের ইতিহাসের আলোকে ৩ দিনের মহোৎসবের জন্য সাজেছে। ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই উৎসব উদ্বোধন করেন মেয়র ক্লাউস শেইনা।
উৎসবে ফোক কোয়্যারের চেয়ারম্যান ভলকার বিঙ্গেল বলেন, “রোডেনবাখ কেবল একটি গ্রাম নয়, এটি জীবন্ত ঐতিহ্য।” উৎসবে ২৪টি খামার, সাতটি বিশেষ বুথ, শিশুদের জন্য আলাদা আয়োজন, ব্যান্ড ও লোকসঙ্গীত রয়েছে।প্রথমেই বানজুরি” ব্যান্ডের সঙ্গীত এর মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

রোডেনবাখের বাসিন্দা রালফ আইসেল স্মৃতিচারণায় বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে রোডেনবাখে বসবাস করছেন। তিনি জানান, তার শ্বশুর একসময় গ্রামের শতবর্ষী পৌরভবন কিনেছিলেন।
আইসেল আরও জানান, গ্রামের লাল ঘরটি ১৬০৫ সালের এবং পাশের ভূগর্ভস্থ ঘরটি ১৫৯৫ সালের। এসব ঘরেই গ্রামীণ অনুষ্ঠান, বিশেষত বিবাহ, সম্পন্ন হতো। তিনি বলেন, “এই ঘরগুলো রোডেনবাখের ইতিহাস বহন করছে।”

জার্মানির রোডেনবাখে বসবাসরত বাংলাদেশেশী প্রবাসী দেলোয়ার জাহিদ বিপ্লব। তিনি ব্যবসা ও সমাজসেবায় সেখানে সুপরিচিত। তিনি হোটেল প্রিন্সেসের মালিক হিসেবে স্থানীয় সমাজে সম্মান ও আস্থা অর্জন করেছেন। তিনি স্থানীয় শিশু ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়দের জন্য জার্সি উপহার দিয়ে ক্রীড়া ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন।

রোডেনবাখে বাড়ি ক্রয় করে বসবাস করছেন প্রবাসী বাংলাদেশী নির্ঝর আতিক। তার এক সময় স্বপ্ন ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষা। ২০১৫ সালে তিনি ভর্তি হন জার্মানির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনে, পরে পড়াশোনা চালিয়ে যান সুইডেনের কেটিএইচ রয়্যাল ইনস্টিটিউটে। বর্তমানে রোডেনবাখে বসবাসরত নির্ঝর আতিক প্রমাণ করেছেন পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে প্রবাসে সফলতা অর্জন সম্ভব।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসের পরে রোডেনবাখের মত ছোট ছোট গ্রামগুলোতে এখনো জার্মানীর প্রাচীন ঐতিহ্য গুলি খুঁজে পাওয়া যায়।