জার্মানবাংলা অনলাইন : বাংলাদেশে অনেকে যেমন মুক্তিযুদ্ধ না করেও জায়গা করে নিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়। আবার অনেক স্বীকৃত রাজাকারও মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার ঘটলো ঠিক উল্টো ঘটনা। মুক্তিযোদ্ধাদের ঠাঁই হলো রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসের তালিকায়। শুধু তাই নয়, গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা, বেশ কয়েকজন সুপরিচিত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ঢুকে পড়েছেন সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর প্রকাশিত স্বাধীনতা বিরোধীদের এ তালিকায়। তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেন প্রধান কৌসলীকে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, দেশজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
এদিকে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভূক্তির ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। আজ ১৭ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রী হিসাবে এর দায় নিচ্ছি। যারা আঘাত পেয়েছেন তাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে যারা জড়িত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ব্যাপকহারে অভিযোগ পেলে তালিকা প্রত্যাহারের চিন্তা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক আবারও বলেন, এ তালিকা আমরা তৈরি করিনি। দাবির প্রেক্ষিতে নথিপত্র দেখে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ভুল নাম তালিকাভুক্ত হলে যাচাই-বাছাই করে তা বাদ দেয়া হবে।
কেউ কেউ ক্ষোভ ঝাড়ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিলো। যাচাই-বাছাইয়ের দরকার ছিলো।